অনলাইনে সাংবাদিক কার্ড: করণীয় নির্ধারণে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন ইসির
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের কার্ড ইস্যু প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে Software Requirement Specification বা SRS প্রণয়নের জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার বিষয়টি জানিয়েছেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদের গঠন করে দেওয়া কমিটির আদেশে বলা হয়েছে, অনলাইন নিবন্ধন থেকে শুরু করে কার্ড ইস্যু পর্যন্ত পুরো কার্যক্রমের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।
১২ সদস্যের কমিটি
নির্বাচন কমিশনের সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সাংবাদিকদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য কার্ড ইস্যুর লক্ষ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসেবে SRS প্রণয়নের জন্য এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে। আর সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার।
এছাড়া রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র (আরএফইডি) সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল, সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলাসহ তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং ইসি কর্মকর্তারা কমিটিতে রয়েছেন।
অনলাইন নিবন্ধন থেকে কার্ড ইস্যু পর্যন্ত পর্যালোচনা
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য কার্ড ইস্যুর লক্ষ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসেবে SRS প্রণয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে কার্ড ইস্যু পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করতে হবে।
অর্থাৎ সাংবাদিকদের অনলাইন নিবন্ধন, তথ্য যাচাই এবং পরবর্তী সময়ে কার্ড ইস্যু পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাঠামো ও সুপারিশ তৈরি করবে কমিটি।
SRS প্রণয়নের কাজ করতে গিয়ে প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্য কোঅপ্ট করতে পারবে। অর্থাৎ কাজের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে কমিটির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে কোনো প্রকার ট্রায়াল ছাড়াই অনলাইনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। সে সময় একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করা হয় অনেকটা তড়িঘড়ি করে। তবে সেই সাইটে আবেদনের পর ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় গণমাধ্যমের আপত্তি ও দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে সে প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে নির্বাচন কমিশন।
তবে এবার আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কার্যকর উপায় ও সফটওয়্যার প্রস্তুতের দিকে যাচ্ছে সংস্থাটি।
এমওএস/কেএএ/


