বার্সা কোচ ফ্লিক বললেন, ব্যালন ডি’অর ইয়ামালেরই প্রাপ্য
বয়স মাত্র ১৯। অথচ এই বয়সেই যেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কারকে নিজের করে নেওয়ার দাবি আরও জোরালো করে তুলছেন লামিনে ইয়ামাল। বুধবার রাতে ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৫-১ গোলের দাপুটে জয়ের ম্যাচে আবারও আলো ছড়িয়েছেন স্প্যানিশ এই তরুণ। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল, সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট- সব মিলিয়ে ইয়ামালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকও।
ফ্লিকের বিশ্বাস, এ বছর ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্যতা ইয়ামালের আছে।
ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই। সে আমার খেলোয়াড়, বার্সেলোনার খেলোয়াড়। সে ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্য। আমার কাছে এটা দারুণ ব্যাপার। প্রতিটি ম্যাচেই আপনি দেখতে পারেন, সে বিশেষ কিছু। তার মতো আর কারও মধ্যে এমন কিছু নেই। আমার মনে হয়, পুরস্কারটা তার প্রাপ্য।’
বৃষ্টিভেজা স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বার্সেলোনা। ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে ইয়ামালের ফ্রি-কিকের গোলটি ছিল চলতি মৌসুমে তার পঞ্চম। শুধু গোল করেই থামেননি তিনি, সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করিয়েছেন।
এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে কিশোর বয়সে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়তে এখন তার সামনে শুধু কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি তারকার গোল ১৩টি। অর্থাৎ আর মাত্র এক গোল করলেই সেই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন ইয়ামাল।
আর বার্সেলোনার হয়ে তার সামগ্রিক পরিসংখ্যান তো আরও বিস্ময়কর। ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট যোগ করে ক্লাবটির জার্সিতে ক্যারিয়ার গোল অবদানের সংখ্যা ১০১-এ পৌঁছে গেছে তার। ১৯ বছর ৫৮ দিন বয়সেই বার্সার হয়ে ৫৪ গোল ও ৪৭ অ্যাসিস্ট করেছেন ইয়ামাল।
তার এমন দুর্দান্ত শুরু এসেছে আরও বড় এক সাফল্যের বছর কাটানোর পর। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতার পাশাপাশি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপও জিতেছেন ইয়ামাল। ফলে এবারের ব্যালন ডি’অর দৌড়ে শুরু থেকেই তার নাম ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
তবে লড়াইটা সহজ নয়। ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ইয়ামালের সঙ্গে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে, বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন এবং গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের মতো তারকারা। পিএসজির আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও রয়েছেন এবারের তালিকায়। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে হবে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
ইয়ামালকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও ফ্লিকের বিস্ময়ের জায়গা রয়েছে আরও দুজনকে নিয়ে। বার্সেলোনার রাফিনিয়া ও পেদ্রি ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় অবাক হয়েছেন জার্মান কোচ।
ফ্লিক বলেন, ‘তারা সেখানে না থাকার মতো খেলোয়াড় নয়। তারা অনেক ভালো। কিন্তু আমরা এটা পরিবর্তন করতে পারব না। তারা অসাধারণ খেলোয়াড় এবং তাদেরও সেখানে থাকা প্রাপ্য।’
বিশেষ করে নতুন অধিনায়ক রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফ্লিক। ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড করেন দুটি গোল। বার্সেলোনার অন্য গোল দুটি করেন গ্রীষ্মের দলবদলে আসা কারিম আদেয়েমি ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে আক্রমণভাগে মূল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলেন রাফিনহা। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো- বার্সেলোনার হয়ে টানা প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। ১৯৫০ সালের পর প্রথম বার্সেলোনা খেলোয়াড় হিসেবে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করলেন রাফিনহা।
ফ্লিক বলেন, ‘আজ রাফিনহার যে তীব্রতা দেখেছি, সেটা দুর্দান্ত। যখন সে নিচ থেকে আক্রমণে ওঠে এবং পেদ্রির পাসে দ্বিতীয় গোলটি করে, সেটি অবিশ্বাস্য।’
শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, বার্সেলোনার সামগ্রিক আক্রমণাত্মক ফুটবলও নতুন করে আশাবাদ তৈরি করছে। মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই পাঁচটি করে গোল করেছে কাতালান ক্লাবটি। এরই মধ্যে মৌসুমে তাদের গোলসংখ্যা ২২।
এই পরিসংখ্যানই সমর্থকদের মনে নতুন স্বপ্ন জাগাচ্ছে- ২০১৫ সালের পর আবারও কি চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি উঠবে বার্সেলোনার হাতে? ফ্লিক অবশ্য এখনই এত দূরের স্বপ্নে ভাসতে রাজি নন। তার মতে, মৌসুমের এখনও অনেক পথ বাকি।
‘আমি যা দেখছি, তা আমার খুব ভালো লাগছে। তবে এমন কিছু পরিস্থিতিও দেখছি, যেখানে আমাদের উন্নতি করতে হবে। মাঠে আমার খেলোয়াড়রা যা করছে, তাতে আমি সত্যিই খুশি। কিন্তু সবসময়ই উন্নতির সুযোগ থাকে। শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি,’ বলেন তিনি।
তবে দলের মানসিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট ফ্লিক। খেলোয়াড়দের মধ্যে উন্নতির ক্ষুধা এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতাই তার কাছে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।
‘আমরা খুব কঠোর পরিশ্রম করছি। সবাই উন্নতি করতে, আরও ভালো হতে ক্ষুধার্ত। এই মানসিকতাই মাঠে আমাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। এটি দারুণ একটি পরিস্থিতি। আমাদের দর্শনের জন্য এই তীব্রতা প্রয়োজন। দল হিসেবে আমরা যেভাবে প্রেসিং করি, তার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।’
বার্সেলোনার দুর্দান্ত শুরুতে যেমন ইয়ামাল-রাফিনিয়ার ঝলকানি, তেমনি ফ্লিকের দর্শনে দলীয় প্রেসিং ও তীব্রতাও হয়ে উঠছে বড় অস্ত্র। আর সেই ধারাবাহিকতার মাঝেই ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ইয়ামালের পক্ষে কোচের এমন প্রকাশ্য সমর্থন ব্যালন ডি’অর দৌড়কে আরও জমিয়ে দিল।
আইএইচএস/


