স্মার্টওয়াচে দেখানো হার্ট রেট-ক্যালরি, সব তথ্য কি নির্ভুল?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
হাতের ঘড়ি এখন শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়। স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে কয়েক মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে হার্ট রেট, কত পদক্ষেপ হাঁটা হয়েছে, কতক্ষণ ঘুম হয়েছে, ব্যায়ামের সময় শরীরের অবস্থা কিংবা আনুমানিক কত ক্যালরি খরচ হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে অনেকেই নিয়মিত স্মার্টওয়াচের স্ক্রিনে চ...

হাতের ঘড়ি এখন শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়। স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে কয়েক মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে হার্ট রেট, কত পদক্ষেপ হাঁটা হয়েছে, কতক্ষণ ঘুম হয়েছে, ব্যায়ামের সময় শরীরের অবস্থা কিংবা আনুমানিক কত ক্যালরি খরচ হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে অনেকেই নিয়মিত স্মার্টওয়াচের স্ক্রিনে চোখ রাখেন। তবে সেখানে দেখানো প্রতিটি সংখ্যা যে শরীর থেকে সরাসরি মাপা এবং শতভাগ নির্ভুল, বিষয়টি এমন নয়।

আসলে কীভাবে কাজ করে স্মার্টওয়াচ?

স্মার্টওয়াচের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সেন্সর শরীরের নড়াচড়া ও শারীরিক পরিবর্তন থেকে সংকেত সংগ্রহ করে। যেমন, অপটিক্যাল সেন্সর ত্বকে আলো পাঠিয়ে কবজির নিচে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন শনাক্ত করে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই ঘড়ি হার্ট রেটের মতো তথ্য দেখায়।

আবার মোশন সেন্সর হাত ও শরীরের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে পদক্ষেপ বা শারীরিক কার্যকলাপের হিসাব করে। বাইরে হাঁটা কিংবা দৌড়ানোর সময় জিপিএস ব্যবহার করে দূরত্ব, অবস্থান ও গতির তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এরপর এসব সংকেত সফটওয়্যার ও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর সামনে বিভিন্ন স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সংখ্যা তুলে ধরা হয়।

কোন তথ্য তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরযোগ্য?

স্মার্টওয়াচের সব স্বাস্থ্য ফিচারের নির্ভুলতা এক নয়। বিশ্রামের সময় হার্ট রেট, নিয়মিত হাঁটার পদক্ষেপ কিংবা বাইরের পরিবেশে জিপিএস-নির্ভর দূরত্বের মতো অপেক্ষাকৃত সরাসরি পরিমাপ করা তথ্য সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে।

অন্যদিকে ক্যালরি বার্ন, ঘুমের বিভিন্ন স্তর, শরীরে পানির পরিমাণ, রিকভারি স্কোর বা বডি কম্পোজিশনের মতো তথ্য সরাসরি মাপার বদলে একাধিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। তাই এগুলোকে নিখুঁত মেডিক্যাল মাপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

কেন একই ব্যক্তির রিডিং বদলে যেতে পারে?

স্মার্টওয়াচ কীভাবে হাতে পরা হচ্ছে, সেটিও রিডিংয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘড়ি খুব ঢিলেঢালা থাকলে সেন্সরের সঙ্গে ত্বকের সংযোগ ঠিকমতো নাও হতে পারে। ঘাম, অতিরিক্ত হাতের নড়াচড়া, তাপমাত্রা, ট্যাটু, ত্বকের বৈশিষ্ট্য এবং শরীরের গঠনও কিছু সেন্সরের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া প্রতিটি নির্মাতা আলাদা সেন্সর, সফটওয়্যার ও অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। তাই একই ব্যক্তির হাতে দুটি ভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ থাকলে কিছু ক্ষেত্রে আলাদা রিডিং দেখা যেতেই পারে।

একটি সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন

স্মার্টওয়াচের স্বাস্থ্য তথ্যকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার উপায় হলো দীর্ঘ সময়ের প্রবণতা বা ‘ট্রেন্ড’ দেখা। একদিন হার্ট রেট সামান্য বেশি বা কম হওয়া কিংবা একটি রাতে ঘুমের হিসাব বদলে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে একই ধরনের পরিবর্তন নিয়মিত হচ্ছে কি না, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই স্মার্টওয়াচ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের একটি সহায়ক উপকরণ হতে পারে, কিন্তু এর প্রতিটি সংখ্যাকে চূড়ান্ত চিকিৎসা-নির্ণয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শরীরে অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক রিডিং পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

কেএসকে

Original Source
https://www.jagonews24.com/technology/article/1155998
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Technology