আত্মহত্যার প্রবণতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
আত্মহত্যা নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে আত্মহত্যামূলক আচরণকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ...

আত্মহত্যা নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে আত্মহত্যামূলক আচরণকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেছেন, আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা সতর্কসংকেত দেখা গেলে দ্রুত তার প্রতি সাড়া দেওয়া, সহানুভূতির সঙ্গে কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) এ সেমিনারের আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে এক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবন হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী- প্রতি বছর বিশ্বে সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।

ফারজানা রহমান বলেন, সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

jagonews24.com

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিটিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এর অর্থ এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ায় এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা নিশ্চিত করে।

তিনি বলেন, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও করুণা দেখানো প্রয়োজন। আত্মহত্যার চিন্তা ও অনুভূতির সঙ্গে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্ট জড়িত। তাই আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির কথা শোনা, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়া জরুরি।

জয়শ্রী জামান আরও বলেন, অনেক মানুষ জানে না বা বিশ্বাস করে না যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রচলিত মিথ, ভুল ধারণা ও ভুল তথ্যের কারণে এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সংকেত দিতে পারেন। যথাসময়ে এসব সংকেত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক অধ্যাপক কাজী লুতফুন নেসা, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস এবং ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত।

এতে কবিতা আবৃত্তি ও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক কবি জুনান নাশিত এবং বিটিএফের উপদেষ্টা, লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মী এমিলি জামান। নৃত্য পরিবেশন করেন সৈয়দা তাসফিয়া জাহান সাবা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনারহুইল ক্লাব অব লবেলিয়া ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর ফাতিমা হাসনাত।

আরটি/কেএসআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1156013
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World