প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী হয়?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবাররে বিভিন্নভাবেই ডিম খাওয়া হয়। বিশেষ করে উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে ডিমের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় অনেক বছর ধরে এটি নিয়ে ...

ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবাররে বিভিন্নভাবেই ডিম খাওয়া হয়।

বিশেষ করে উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে ডিমের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় অনেক বছর ধরে এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের দ্বিধা রয়েছে। তাহলে ডিম কি সত্যিই হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর? নাকি পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে?

ডিমে কী কী পুষ্টি রয়েছে?

ডিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণগুলোর একটি হলো উচ্চমানের প্রোটিন। শরীরের পেশি তৈরি ও মেরামত করতে প্রোটিন প্রয়োজন, তাই নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকাতেও ডিম জায়গা করে নিতে পারে।

ডিমে ভিটামিন এ, ডি, ই ও বি১২-এর পাশাপাশি ফোলেট ও রিবোফ্লাভিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এর বেশিরভাগ ভিটামিন ও খনিজ কুসুমে থাকে। কুসুমে কোলিনও পাওয়া যায়, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ডিমের কুসুমে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।

প্রতিদিন একটি ডিম খেলে কী হয়?

ডিম নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো এর কোলেস্টেরল। একটি বড় ডিমের কুসুমে প্রায় ১৮০-১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকতে পারে। এই কারণেই একসময় ডিমকে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করা হতো।

তবে বর্তমানে পুষ্টিবিজ্ঞানে শুধু একটি খাবারে থাকা কোলেস্টেরলের দিকে না তাকিয়ে পুরো খাদ্যতালিকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি ডিম সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। ডিমের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখে।

তবে ডিম খাওয়ার সঙ্গে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল ও গোটা শস্য রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ডিম খেলেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয় না।

কখন ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হবেন?

ডিমকে একেবারে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’-কোনো একটি দলে ফেলার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস ও রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে।

যাদের এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বেশি, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের নিয়মিত বেশি ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে ডিমের সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বেশি মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে পুরো খাবারটির স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

ডিম যেভাবে খাওয়া ভালো

ডিম সিদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায়। চাইলে একটি গোটা ডিমের সঙ্গে অতিরিক্ত ডিমের সাদা অংশ যোগ করা যায়। এতে প্রোটিন বাড়ে, কিন্তু অতিরিক্ত কুসুম যোগ না হওয়ায় কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈচিত্র্য। ডিমকে একমাত্র প্রোটিনের উৎস না বানিয়ে খাদ্যতালিকায় মাছ, ডাল, দুধ বা দই, পনির, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও রাখা উচিত।

তাই সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত ডিম খাওয়াকে অকারণে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ডিম কতটা খাবেন, কীভাবে রান্না করবেন এবং পুরো দিনের খাদ্যতালিকা কেমন-স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরিতে মূল গুরুত্ব সেখানেই।

সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ, ইন্ডিয়া টুডে

এসএকেওয়াই

Original Source
https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1156005
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Lifestyle