হৃদরোগীদের কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো ভালো?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়ার অন্যতম প্রধান উপায় ঘুম। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু পরদিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায় না, হৃদযন্ত্র ও স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শরীরের অবস্থানও কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উ...

সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়ার অন্যতম প্রধান উপায় ঘুম। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু পরদিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায় না, হৃদযন্ত্র ও স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শরীরের অবস্থানও কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে শোয়ার পর শ্বাসকষ্ট, বুকের অস্বস্তি বা শরীরে তরল জমার মতো সমস্যা থাকলে ঘুমের ভঙ্গির কারণে উপসর্গ কম-বেশি হতে পারে। তবে হৃদরোগীদের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ঘুমের ভঙ্গি সবচেয়ে ভালো-এমন কোনো নিয়ম নেই। কারো কোন ভঙ্গিতে আরাম হচ্ছে এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পাশ ফিরে ঘুমানো কি ভালো?

অনেক হৃদরোগীর কাছে পাশ ফিরে ঘুমানো আরামদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে চিৎ হয়ে শুলে যদি শ্বাসকষ্ট বাড়ে, তাহলে পাশ ফিরে শোয়া কিছু মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

বাঁ দিকে ফিরে ঘুমানো নিয়ে অনেক ধরনের কথা প্রচলিত আছে। তবে প্রত্যেক হৃদরোগীর জন্য বাঁ দিকে ফিরে ঘুমানোই সবচেয়ে ভালো-এমন প্রমাণ নেই। তাই শুধু ‘হার্টের জন্য বাঁ দিকে ঘুমাতেই হবে’ এমন ধারণা অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই।

হার্ট ফেইলিওরের মতো সমস্যায় শুয়ে পড়ার পর শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরের ওপরের অংশ কিছুটা উঁচু করে ঘুমানো আরাম দিতে পারে। প্রয়োজন হলে বালিশ দিয়ে মাথা, ঘাড় ও বুকের অংশ সামান্য
উঁচু করে রাখা যায়।

চিৎ হয়ে ঘুমানো কি ক্ষতিকর?

চিৎ হয়ে ঘুমানো মানেই হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর-এমন নয়। অনেক মানুষ এই ভঙ্গিতেই স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমান। তবে কিছু হৃদরোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হার্ট ফেইলিওর বা শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার সমস্যা থাকলে, সম্পূর্ণ চিৎ হয়ে শোয়ার পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে।

যদি শুয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পরই হাঁপ ধরতে শুরু করে, বারবার উঠে বসতে হয় কিংবা ঘুমানোর জন্য আগের তুলনায় বেশি বালিশ প্রয়োজন হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু ঘুমের ভঙ্গির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

কোন লক্ষণগুলো সতর্কবার্তা?

রাতে শোয়ার পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতিতে জেগে ওঠা, নতুন করে পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিংবা অল্প সময়ে অস্বাভাবিক ওজন বেড়ে যাওয়া-এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। বিশেষ করে হৃদরোগের থাকলে এসব উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো যাবে?

হৃদরোগীদের জন্য পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো একেবারেই নিষেধ কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। তবে কারা ক্ষেত্রে এই ভঙ্গিতে বুকে চাপ লাগতে পারে বা শ্বাস নিতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই যে ভঙ্গিতে বুকব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি তৈরি হয়, সেই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ থাকা উচিত নয়।

হৃদরোগীর ঘুমের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আরামদায়কভাবে ঘুমানো এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারা। ঘাড়, পিঠ বা পায়ের নিচে প্রয়োজন অনুযায়ী বালিশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে ঘুমের সময় বারবার শ্বাসকষ্ট বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে শুধু বালিশ বা ঘুমের ভঙ্গি বদলে নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি।

সূত্র: হেলথ লাইন, স্লিপ ফাউন্ডেশন

এসএকেওয়াই

Original Source
https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1156019
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Lifestyle