ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে: মেয়র শাহাদাত

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য নিজ নিজ বাসাবাড়...

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও নাগরিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।

চসিক মেয়র বলেন, তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিতে হবে। নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচে ও নির্মাণাধীন ভবনে কোথাও পানি জমে আছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমছে। জমে থাকা পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

চসিকের চলমান মশক নিধন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিটিআই পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা জানাতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ঠিকমতো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বা কোনো ধরনের গাফিলতি হচ্ছে- এমন অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাবেন। ‌‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্র ফেলা যাবে না। এসব সামগ্রীতে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। বাড়ির ছাদ ও আশপাশের ঝোপঝাড়ও নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পক্ষ থেকে ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে। আগামী তিন মাসের দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে চট্টগ্রাম নগরেও মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

মেয়র জানান, নগরের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও বন্দরসহ কয়েকটি এলাকা ডেঙ্গুর জন্য তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমরা চাই আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুতে আর একজন মানুষও যেন প্রাণ না হারান। এজন্য সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, চসিক নগরবাসীর পাশে আছে এবং থাকবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সব নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই মিলে বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/কেএসআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1156039
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Health