ভুল লেখার কারণে শিক্ষিকার মারধরে অজ্ঞান দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানে এক স্কুলে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষিকার মারধরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রের অজ্ঞান হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে আটক করেছে পুলিশ।
উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটির স্কুলে ক্লাস চলাকালীন হওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষিকাকে আটকের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় নিমতা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এরপরই তাকে আটক করা হয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
জানা গেছে, বুধবার বিরাটি ইউপি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধর করেন ওই শিক্ষিকা। ছাত্রের পরিবারের দাবি, মারধরের পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্কুলেই জ্ঞান হারায় শিশুটি। ঘটনার পরপরই নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করে শিশুটির পরিবার। এরপর বৃহস্পতিবার স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষিকার শাস্তির দাবিতে থানায় এসে বিক্ষোভ করেন। স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ইংরেজির শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আগেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন অভিভাবকরা। আরও অভিযোগ আছে- এর আগে নাকি তিনি বাচ্চাদের দিয়ে নিজের হাত-পা টিপিয়েছেন। তবে, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জানান, এ ধরনের ঘটনায় তার কাছে আগে কখনো অভিযোগ আসেনি। তিনি এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেবেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী ছাত্রের মা জানান, ওইদিন সাড়ে ৮টার দিকে তার কাছে ফোন আসে-ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি জানতে পারেন, ইংরেজি ক্লাসে ছেলে কিছু ভুল করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে রেগে যান শিক্ষিকা। প্রথমে তার ছেলের দুই গালে চড় মারা হয়। তার পরে ঘাড়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।
এ ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এএমএ

