সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, বন্ধুকে হত্যার পর মরদেহ লুকাতে সিমেন্টের ঢালাই

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
রাজধানীর লালবাগে সুদের ৩ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামের এক আবাসন (ডেভেলপার) ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের তিন দিন পর পাঁচতলা এক ভবনের নিচতলার বারান্দার পাশের মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্ট...

রাজধানীর লালবাগে সুদের ৩ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামের এক আবাসন (ডেভেলপার) ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের তিন দিন পর পাঁচতলা এক ভবনের নিচতলার বারান্দার পাশের মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লালবাগের ৯ নম্বর বি সি দাস স্ট্রিটের ২৬ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গতকাল ​বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে অভিযান শুরু করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

​এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোহাম্মদ মাসুম নামের এক ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করেন।

​পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নিহত শেখ ওয়াসিম রনি এবং অভিযুক্ত মাসুম পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। রনি আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি সুদের কারবার করতেন। আট মাস আগে মাসুম তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেন, যার বিনিময়ে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে নিয়মিত টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল।

​গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাওনা সুদের টাকা ও জামানতের চেক আনতে মাসুমের পাইকারি কারখানায় যান রনি। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। মাসুমের ঘুষিতে রনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ আড়াল করতে কারখানার নিচতলার বারান্দার পাশে গর্ত করে রনিকে মাটিচাপা দেওয়া হয় এবং তার ওপর সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

​নিহতের শ্যালক মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই রনির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও নিখোঁজের অভিযোগ করা হয়। নিখোঁজের বিষয়ে মাসুমের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলে তার স্ত্রী জানান, রনি বাসায় এলেও কিছুক্ষণ পর চলে গেছেন। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে মূল তথ্য বেরিয়ে আসে।

​মুরাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বোনের স্বামীকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত মাসুম রনিকে মেরে মাটির নিচে চাপা দিয়ে ওপরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

​নিহতের দুলাভাই নাসির উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে পাগলের মতো খুঁজছিলাম। শেষ পর্যন্ত এভাবে তার মরদেহ পাওয়ার খবর শুনবো, তা ভাবতেও পারিনি।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দার মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কাজী আল-আমিন/কেএসআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1156080
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Health