ঘুসের রেট ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ, টাকা ছাড়া কাজ করেন না ভূমি কর্মকর্তা

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
নামজারির আবেদন করেছেন নিয়ম মেনেই। কাগজপত্রও আছে। তবু কাজ এগোয় না। কখনো কাগজে সমস্যা, কখনো জমিতে জটিলতা। এভাবে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় ভূমি কার্যালয়ে। শেষ পর্যন্ত সেই ‘জটিলতা’ কাটাতে দিতে হয় টাকা। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব...

নামজারির আবেদন করেছেন নিয়ম মেনেই। কাগজপত্রও আছে। তবু কাজ এগোয় না। কখনো কাগজে সমস্যা, কখনো জমিতে জটিলতা। এভাবে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় ভূমি কার্যালয়ে। শেষ পর্যন্ত সেই ‘জটিলতা’ কাটাতে দিতে হয় টাকা।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। তাদের দাবি, নামজারি ও জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে ২০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস চাওয়া হয়। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে আটকে থাকে তদন্ত। আর টাকা দিলে দ্রুত করে দেওয়া হয় কাজ।

‘আমি জমি খারিজ করতে গিয়েছিলাম। নায়েব (উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা) আমাকে তার রুমের পাশের রুমে নিয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকা চায়। আমি দিয়ে আসি। তারপর আমাদের জমিটা খারিজ করে দেয় নায়েব’—ভুক্তভোগী

ভুক্তভোগীদের একজন আনছের আলী। নামজারির জন্য ঘুরেছেন প্রায় দেড় বছর। একের পর এক সমস্যার কথা বলে তার আবেদন বাতিল করা হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তার।

আনছের আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘নামজারি করার জন্য আমি দেড় বছর ঘুরেছি। বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে আমার আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে পাশের একটি রুমে নিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দেওয়ার পরই আমার নামজারি করে দেওয়া হয়। দেড় বছর ঘুরে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।’

আনছের আলীর মতো আরও কয়েকজন সেবাপ্রার্থী একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও ঘুস ছাড়া ভূমি কার্যালয় থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন।

‘নামজারি করার জন্য আমি দেড় বছর ঘুরেছি। বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে আমার আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে পাশের একটি রুমে নিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দেওয়ার পরই আমার নামজারি করে দেওয়া হয়। দেড় বছর ঘুরে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি’—ভুক্তভোগী

দড়গ্রাম ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ মতিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভূমি অফিস থেকে এই ইউনিয়নের আমার তিনটি জায়গার খারিজ (নামজারি) করেছি। এজন্য আমার কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নিয়েছে।’

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ মিয়ার ভাষ্য, ‘আমাদের দড়গ্রাম ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েব (উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা) টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। টাকা না দিলে নানান সমস্যা দেখায়। টাকা দিলেই সব কিছুই সমাধান করে দেয়।’

মাদার উদ্দিন নামের আরেকজন বলেন, ‘আমি জমি খারিজ করতে গিয়েছিলাম। নায়েব আমাকে তার রুমের পাশের রুমে নিয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকা চায়। আমি দিয়ে আসি। তারপর আমাদের জমিটা খারিজ করে দেয় নায়েব।’

শুধু মানুষের মৌখিক অভিযোগ নয়, এ প্রতিবেদকের হাতে একটি ভিডিও এসেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, চাহিদা অনুযায়ী সেবাপ্রার্থী টাকা দিয়েছেন কি-না তা গুনে দেখছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব।

অভিযোগের বিষয়ে দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি টাকা দিয়ে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কোনো তহশিলদার বা ভূমি প্রশাসনের কোনো কর্মচারী কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসআর/জেআইএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1156123
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World