গুলশানে আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজধানীর গুলশানে মিছিল করার সুযোগ পাওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিদ্রুপ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। সেই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আবু হানিফ লেখেন, ‘গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজকের এই মিছিল করার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে গুলশান জোনের ডিসি (উপ-কমিশনার)। আপনারা কি মনে করেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই মিছিলের বিষয়ে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না?’
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে বিরোধীদলের নেতারা শৌচাগারে গেলেও সেই তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে থাকতো। তাহলে এখন আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে অগ্রিম তথ্য থাকে না, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন টাকার বিনিময়ে মিছিল করার সুযোগ করে দেন।
আবু হানিফের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় গুলশানের ওই মিছিলের ‘সব ক্রেডিট’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। তা ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার এবং পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এমডিএএ/একিউএফ



