সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর শনাক্তে সহযোগিতার আশ্বাস ভান্তারার

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিংটেইল লেমুর ভারতের গুজরাটের জামনগরের ভান্তারা পার্কে রয়েছে—বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাইকরণে আইনসম্মত...

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিংটেইল লেমুর ভারতের গুজরাটের জামনগরের ভান্তারা পার্কে রয়েছে—বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাইকরণে আইনসম্মত যেকোনো অনুরোধে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় ভান্তারা। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গুজরাটের জামনগরে গড়ে ওঠা ভান্তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভান্তারায় থাকা প্রতিটি প্রাণীর উৎস ও ইতিহাসের নথি সংরক্ষিত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে যেসব রিংটেইল লেমুরের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা মেনেই সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ভান্তারা নিশ্চিত।

প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে ভান্তারা প্রস্তুত বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা একটি গুরুতর অপরাধ। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে সমর্থন করে ভান্তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই মামলায় ভান্তারা অভিযুক্ত নয় এবং কোনো তদন্তকারী সংস্থা থেকে তারা এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি। প্রতিবেদনে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও ভান্তারার কোনো লেনদেন নেই। ভান্তারার তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

ভান্তারা জানিয়েছে, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা রিংটেইল লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নথিগুলো পরীক্ষা করতে ভান্তারার স্বাধীন পরিচালনা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, ভান্তারার বিবৃতিটি আমরা ফেসবুকে দেখেছি। যেহেতু লেমুর চুরি যাওয়ার পর প্রথমে ডিবি পুলিশ, পরে সিআইডি তদন্ত করেছে, একটি তদন্তকারী সংস্থা এখন কাজ করছে। আমরাও তাদের সবদিক থেকে সহযোগিতা করব।’

তিনি বলেন, একই পরিবারের সদস্য অপর একটি লেমুর গাজীপুর সাফারি পার্কে রয়েছে। লেমুরটির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই তা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যেভাবে চুরি হয়েছিল

২০১৮ সালের ৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে রুট হিসেবে অন্য দেশে পাচারের সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর সঙ্গে একটি পুরুষ ও একটি মাদি লেমুর উদ্ধার করা হয়। পরে লেমুর দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়। পার্কে থাকাকালে লেমুর দুটির বাচ্চা জন্ম নেয়।

এরপর একটি লেমুর মারা গেলে পার্কে তিনটি লেমুর ছিল। ২০২৫ সালের ২২ মার্চ দিনগত রাতে লেমুরের বেষ্টনীর নেট কেটে তিনটি লেমুর চুরি করা হয়। এ ঘটনায় ২৪ মার্চ থানায় অভিযোগ দেওয়া হয় এবং ৬ এপ্রিল মামলা করা হয়।

পরে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি লেমুর উদ্ধার করে পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর চুরি হয়ে যাওয়া লেমুর উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি জানতে পারে, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটি ভারতের গুজরাটের জামনগরে ভান্তারায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সিআইডির বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে পাচারের পর একাধিক হাতবদল হয়ে লেমুর দুটি প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে ভান্তারায় বিক্রি করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শিহাব খান/কেএইচকে

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1156153
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World