সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সাত বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিল্লিতে শনিবার (১২ সেপ্টম্বর) ও রোববার অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।
তার দিল্লি সফর হবে, সে বিষয়টি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতে গিয়েছিলেন শি জিনপিং। সে সময় তিনি চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
তার এই আসন্ন সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চলমান প্রচেষ্টার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি ব্রিকসে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি এরই মধ্যে জটিল ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর তার প্রভাব পড়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে উষ্ণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে এবং শি জিনপিংয়ের এই সফর সেক্ষেত্রে আরও বেশি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর সম্পর্কে ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর, মোদীর দিকে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করছে। তবে রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি হবে এমনটা আশা করলে খুব হয়তো খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এখনো নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এর নেপথ্যে কঠোর বিধিনিষেধের ফলে বিনিয়োগ স্থগিত হওয়া, ভিসা পাওয়ায় বিলম্ব এবং শিল্প সরঞ্জামের উপর বিধিনিষেধ আরোপের মতো কারণ রয়েছে।
গালওয়ানের পর সম্পর্কে উত্তেজনা কমবে?
২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে গালওয়ানে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে। সংঘর্ষে তাদের মাত্র চারজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল বলে চীন দাবি করেছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। গত বছর নরেন্দ্র মোদী সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে চীনে তিয়ানজিন সফর করেন। সেই সময় শিরোনামে উঠে এসেছিল রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়।
সেই সময় আরও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল এবং তা হলো, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটা বড় ধাক্কার চেয়ে কম ছিল না।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দিল্লি-ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ ভি পান্থের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভরসার যোগ্য নয়’ এমন নীতি দুই দেশকে একটা জায়গা দিয়েছে যেখানে তাদের নিজেদের মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে দেশের মানুষের স্বার্থের জন্য আলোচনার টেবিলে বসতে পারে।
পান্থ বিবিসি নিউজ হিন্দিকে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশেরই একে অন্যকে প্রয়োজন ও সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই নরম মনোভাব দেখিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন চলতি সপ্তাহের ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম সিনিয়র মিলিটারি কমান্ডার পর্যায়ের ফ্ল্যাগ মিটিং ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচাতে অনুষ্ঠিত হয় ও ৭ সেপ্টেম্বর সীমান্তে চীনের দিকে থাকা দামাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় বৈঠক।
গত বছর, ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও পেশাদারদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও শিথিল করা হয়েছিল।
২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শি জিনপিং প্রায় পাঁচ বছর পরে বৈঠক করেছিলেন। সেসময় তারা লাইন অব কন্ট্রোল বা এলএসি থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ২০২০ সালে যে বিবাদ শুরু হয়েছিল তা সমাধানের জন্য চুক্তিকে স্বাগত জানান।
একই সঙ্গে ধারণা করা হয়েছিল, দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। তবে হর্ষ ভি পান্থ মনে করেন সীমান্ত বিরোধ এত তাড়াতাড়ি শেষ হবে না ও এটা এমন কোনো বিষয়ও না যাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তার কথায়, এখন দুই পক্ষের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সমস্যা আর না বাড়ে। ২০২০ সালের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে ও সীমান্ত সম্পর্কের ওপর আস্থা তৈরি হয়। এজন্য ওয়াং ই ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে বৈঠকও হয়েছিল। এরপর কমান্ডারদের মধ্যেও বৈঠক হয়।
ভারত ও চীনের মধ্যে দুটি বড় ইস্যু
পান্থ ব্যাখ্যা করেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আস্থার ঘাটতি ও বাণিজ্য ঘাটতি দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
তার মতে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং এই সফরে ৪০০ জন প্রতিনিধির একটা বড় প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে আসছেন, যাদের বেশিরভাগই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত।
এর অন্যতম কারণ হলো গালওয়ানের ঘটনার পর ভারত খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে সীমান্তে যে কোনো রকম সমস্যা সামগ্রিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্য অংশীদারিত্বের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
দেখা গিয়েছে যে, একদিকে যেমন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তেমনই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে ভারত। গালওয়ানে সংঘর্ষের পর এইসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস ও সোলার সেল সেক্টর ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ক্যাপিটাল গুডস বা মূলধনী পণ্য বলতে ভৌত, মানবসৃষ্ট সম্পদকে বোঝায় যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে বিক্রি না করে অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করে।
কয়েকটা নির্দিষ্ট শিল্পের ক্ষেত্রে ভারত দুই দেশের সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগের দ্রুত অনুমোদনেরও অপেক্ষা করছে।
সম্প্রতি, নয়াদিল্লি স্মার্টফোন উৎপাদনের জন্য ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিস ও চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ভিভো মোবাইলের মধ্যে যৌথ উদ্যোগসহ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন জানিয়েছে। তবে কিছু বড় বিনিয়োগ ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে এখনো কিছু বাধা রয়ে গিয়েছে।
ভারত সরকারের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিওয়াইডি ও গ্রেট ওয়াল মোটরের মতো বড় চীনা সংস্থাগুলোর জন্য এই শিথিলতা যথেষ্ট নয়। এই গাড়ি নির্মাতারা দিল্লির পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর ভারতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত রাখে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, সম্প্রতি কিরগিস্তানে আয়োজিত সম্মেলনের সময় শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদী একটা সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন এবং সে সময় তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশ ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার ও তারা একে অন্যের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ’।
আসলে দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের অস্থিতিশীল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে লড়ছে।
হর্ষ ভি পান্থ ব্যাখ্যা করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়েছে। এমনকি, ইউরোপও চীনের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেছে। চীনের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিভিত্তিক ও তাদের বাজার প্রয়োজন। ভারত তাদের কাছে একটা বড় বাজার হয়ে উঠতে পারে।
তার মতে, ভারতের দিক থেকে একটা বড় সমস্যা হলো বাণিজ্য ঘাটতি, যা ১০০ বিলিয়ন (দশ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের পণ্যের জন্য চীনে কোনো বাজার নেই। ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে (উৎপাদন ক্ষেত্রে) ভারত কৌশলগত ক্ষেত্র ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে বাড়াতে চায়, তবে প্রযুক্তি হস্তান্তর হওয়া দরকার, যাতে ভারত ভ্যালু চেইনের (মূল্য শৃঙ্খলে) নিরিখে এগিয়ে যেতে পারে।
পান্থের মতে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরের সময় দু'পক্ষের মধ্যে এই নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
চীন কী চায়?
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং রয়টার্সকে বলেছেন, চীন অবশ্যই সম্পর্কের উন্নতি করতে চায়, কিন্তু আমরা দেখতে চাই ভারত সত্যিই কতটা আগ্রহী। তবে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, পান্থের কথায়, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে ও একটা নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা তা (অর্থনৈতিক শক্তি) ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে, এমন এক সময় যখন দুই দেশই মার্কিন বাণিজ্য নীতি দ্বারা প্রভাবিত।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ইস্যুতে মনোনিবেশ করা দুই দেশের স্বার্থের পক্ষে, তবে বিষয়টা তেমন সহজ নয়। বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াও বাজার প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিধিনিষেধের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। দুই পক্ষই এই সমস্যাগুলো কতটুকু সমাধান করতে পারে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমস ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির বিষয়ে আশাবাদী।
গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫১.১ বিলিয়ন (১৫ হাজার ১১০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে, যা চীনকে আরও একবার ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার করে তুলেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্থান-পতন সত্ত্বেও, এই উৎসাহব্যঞ্জক পরিসংখ্যান দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতি এবং দুই দেশের অর্থনীতির ক্রমাগত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।
‘তারা একসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আরো সম্প্রসারণ ও উন্নতির জন্য একটা শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।’
যেসব বাণিজ্যিক বাধার সমাধান দরকার
সম্পর্কের উষ্ণতা আনা ও উন্নতি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অচলাবস্থা রয়ে গেছে। গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান আলিপের দেওয়া এক প্রস্তাব অনুমোদন করতে রাজি হয়নি দিল্লি। এই প্রস্তাবে ভারতের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ছিল।
অনুমোদন না দেওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল ভারত।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার চীনের মোবাইল ফোন নির্মাতা শাওমির বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করার কথা বিবেচনা করছে। এই তদন্তের ভার ছিল সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসের ওপর। ভারতে ওই কোম্পানির কার্যক্রম সংক্রান্ত কথিত অনিয়ম ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শাওমি বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা আইন মেনেই কাজ করেছে।
অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা তাদের সংস্থাগুলোকে বন্দরের সরঞ্জাম, সৌর প্যানেল ও মোবাইল উৎপাদন সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত পণ্য ভারতের কাছে না বিক্রি করার কথা বলেছে।
রয়টার্স এও দাবি করেছে যে, সৌরশক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ চীনা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আটকে রাখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, সুড়ঙ্গ নির্মাণের কয়েকটা মেশিন এইভাবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে।
হর্ষ ভি পান্থ বলছিলেন, দুইপক্ষের পক্ষ থেকেই কিছু বিধিনিষেধ কমানো যেতে পারে। তবে রাতারাতি দৃশ্য বদলে যাবে বলে মনে হয় না। চীনের অর্থনৈতিক শক্তি থেকে লাভবান হতে চায় ভারত। কীভাবে চীনা বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা যায় তা নিয়েও ভারতে বিতর্ক রয়েছে।
‘আর চীনকে দেখাতে হবে যে তারা ভারতের প্রতি অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে সিরিয়াস ও এর একটা উদাহরণ হতে পারে ভারতকে তাদের (চীনা) বাজারে প্রবেশাধিকার দেওয়া।’
গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে ভারতের কৃষিপণ্য, খনিজ সম্পদ ও বিশেষত ভোগ্যপণ্য প্রবেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষেত্র উপকৃত হবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
এসএএইচ


