ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতারণার আস্তানা, চট্টগ্রামে আটক ৬৩ বিদেশি কারাগারে
অনলাইন প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে আটক চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী এলাকায় অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এতে সহযোগিতা করে খুলশী থানা পুলিশ। অভিযানে একটি বাসা থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের কয়েকজন এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
জব্দ করা হয়েছে যেসব সরঞ্জাম
অভিযানে ১৩৪টি পুরোনো/ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়। এছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাবলেট, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড ও মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করা হচ্ছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জাগোনিউজকে বলেন, বাংলাদেশে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য চক্রটির দেশীয় ও বিদেশি সহযোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, গ্রেফতাররা পরস্পরের যোগসাজশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিলেন।
তবে তারা কী ধরনের অনলাইন প্রতারণা করতেন এবং এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ২১,২২,২৪ ও ২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এমআরএএইচ/এমএএইচ/


