চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর যুবদল নেতার
বগুড়ার শেরপুরে পৌর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতার দাবি, চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং জমিসংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর পৌরসভার সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়ক এলাকায় অবস্থিত সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এবং সায়েম ট্রেডার্স নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই দিন রাতে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী আবদুল মান্নানের ছেলে মো. আবদুল্লাহ আল রাফাত (৩৩) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
মামলায় শেরপুর পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে (৪২) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত নিজেও শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম মণ্ডল সুরুজকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, তোদের মালিক যদি আমাকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়, তবে এই এলাকায় কোনো ব্যবসা করতে দেব না। একই সঙ্গে তাদের মালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তরিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও মদদে ৫০-৬০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে পুনরায় পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা দিতে অস্বীকার করায় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর ব্যাগে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আসামিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত বলেন, আমরা একই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। এর আগেও সরকারের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে ওই যুবদল নেতা ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।
তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি বগুড়া শহরে ছিলাম। সেখানে চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো প্রশ্নই আসে না। মূল ঘটনা হচ্ছে, আরফান ও আবদুল মান্নানরা স্থানীয় পৈতৃক ও সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়ে কেবল এর প্রতিবাদ করেছেন। আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন সেখানে চাঁদার কোনো কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করতেই এই ভিত্তিহীন এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে বিষয়টি মূলত জায়গা-জমিসংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধ। চাঁদাবাজির কোনো স্পষ্ট ঘটনা পাওয়া যায়নি। তবে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এল.বি/কেএইচকে


