নারকেল তেল কি সত্যিই সুপারফুড? চুল-ত্বকের যত্নেও কতটা কাজে দেয়
নারিকেল তেলের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। রান্নাবান্নার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্ন, চিকিৎসা এবং নানা ধর্মীয় আচারেও বহু বছর ধরে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘরের পরিচিত এই তেল নিয়ে মানুষের আগ্রহও কম নয়।
কেউ মনে করেন, নারিকেল তেল খেলে ওজন কমে, আবার কারো ধারণা এটি হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। তবে এসব ধারণার সবকটির পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
নারিকেল তেলের ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের বিপাকক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বেশি পরিমাণে খেলে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে নারিকেল তেলকে ‘সুপারফুড’ মনে করে ইচ্ছেমতো খাওয়ার বদলে পরিমিত ব্যবহার করাই ভালো।
চুল ও ত্বকের যত্নে
চুলের যত্নে নারিকেল তেলের ব্যবহার বেশ পুরোনো। চুলে এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি চুলের প্রোটিনের ক্ষয় কিছুটা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নারিকেল তেল ব্যবহার করলেই চুল পড়া বন্ধ হবে বা নতুন চুল গজাবে-এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
ত্বকের ক্ষেত্রেও নারিকেল তেল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকে এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে সবার ত্বকে একইভাবে মানাবে এমন নয়। যাদের ত্বক সহজে ব্রণপ্রবণ, তাদের মুখে নারিকেল তেল ব্যবহারে সতর্ক থাকা ভালো।
নারিকেল তেলের ধরনও আলাদা
বাজারে এক ধরনের নয়, বিভিন্ন ধরনের নারিকেল তেল পাওয়া যায়। শুকনো নারিকেলের শাঁস থেকে তৈরি হয় রিফাইন্ড কোকোনাট অয়েল। পরিশোধনের কারণে এর গন্ধ ও স্বাদ তুলনামূলক হালকা। রান্না ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে তাজা নারিকেলের শাঁস থেকে তুলনামূলক কম তাপ ও কম প্রক্রিয়াজাত পদ্ধতিতে তৈরি হয় ভার্জিন কোকোনাট অয়েল। এতে নারিকেলের স্বাদ ও গন্ধ বেশি থাকে। কিছু প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগও তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
আরেক ধরনের হলো ফ্র্যাকশনেটেড কোকোনাট অয়েল। বিশেষ প্রক্রিয়ায় নারিকেল তেলের নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে এটি তৈরি করা হয়। সাধারণত প্রসাধনী, ত্বকের যত্ন ও ম্যাসাজে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। রান্নার তেল হিসেবে এটি সাধারণত ব্যবহার করা হয় না।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, নারিকেল তেলের ক্ষেত্রে ‘এক্সট্রা ভার্জিন’ নামে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট মান নেই। তাই বোতলে এই শব্দ লেখা থাকলেই তেলটি অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর-এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কেনার সময় কী দেখবেন?
নারিকেল তেল কেনার আগে বোতলের উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ ও প্যাকেজিং ভালোভাবে দেখে নিন। বোতল ঠিকমতো সিল করা আছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন।

প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী হয়?
ব্যবহারের পর বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন। তেল সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা, শুষ্ক ও সরাসরি রোদ পড়ে না এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। রান্নার সময় তেল অতিরিক্ত গরম করে ধোঁয়া ওঠানো উচিত নয়। একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করাও এড়িয়ে চলা ভালো।

হৃদরোগীদের কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো ভালো?
তেলের গন্ধ বা স্বাদে অস্বাভাবিক পরিবর্তন মনে হলে সেটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। নারিকেল তেল উপকারী হতে পারে, তবে এটি কোনো ‘ম্যাজিক’ খাবার নয়। রান্না, রূপচর্চা বা অন্য যেকোনো ব্যবহারে পরিমাণ ও প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: ওয়েবএমডি, হিন্দুস্তান টাইমস
এসএকেওয়াই

