প্রতিদিন দাঁত মাজলেও যেসব কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা প্রতিদিন দাঁত মেজে থাকি। দাঁত ও মাড়ির সুস্থতার জন্য দিনে অন্তত দুবার ব্রাশ করার পরামর্শ দেন দন্ত চিকিৎসকরা। কিন্তু নিয়মিত দাঁত মাজা ও কুলকুচি করার পরও অনেকের মুখে থেকে যায় বিরক্তকর গন্ধ। বিষয়টি শুধু অস্বস্তিকর নয়, সামাজিক পরিস্থিতিতেও বিব্রতকর হয়ে উঠতে প...

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা প্রতিদিন দাঁত মেজে থাকি। দাঁত ও মাড়ির সুস্থতার জন্য দিনে অন্তত দুবার ব্রাশ করার পরামর্শ দেন দন্ত চিকিৎসকরা। কিন্তু নিয়মিত দাঁত মাজা ও কুলকুচি করার পরও অনেকের মুখে থেকে যায় বিরক্তকর গন্ধ। বিষয়টি শুধু অস্বস্তিকর নয়, সামাজিক পরিস্থিতিতেও বিব্রতকর হয়ে উঠতে পারে।

মুখের দুর্গন্ধকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হ্যালিটোসিস। এর পেছনে শুধু অপরিষ্কার দাঁত নয়, মুখের ভেতরে জমে থাকা খাবার, জিহ্বায় ব্যাকটেরিয়া, মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া কিংবা কিছু খাবার ও অভ্যাসও দায়ী হতে পারে।

দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকলে

নিয়মিত ব্রাশ করলেও দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের কণা সবসময় পরিষ্কার হয় না। এসব জায়গায় ব্যাকটেরিয়া জমে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। তাই দাঁত ব্রাশের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লসিং করাও গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লসের সাহায্যে দাঁতের ফাঁকে থাকা খাবার ও প্লাক পরিষ্কার করা যায়।

জিহ্বাও পরিষ্কার রাখুন

মুখের দুর্গন্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে জিহ্বার ওপর জমে থাকা আবরণ। জিহ্বায় ব্যাকটেরিয়া ও খাদ্যকণা জমে থাকলে সেখান থেকে দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি হতে পারে। তাই ব্রাশ করার সময় জিহ্বাও আলতোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। চাইলে টাং ক্লিনার ব্যবহার করা যায়।

পানি কম পান করলে হতে পারে দুর্গন্ধ

মুখের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে লালার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে লালা উৎপাদন কমে মুখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আর মুখ শুষ্ক থাকলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ার সুযোগ পায়। তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

কফি ও ধূমপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত কফি পান করার পর অনেকের মুখ শুষ্ক লাগতে পারে, যা মুখের দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে। একইভাবে ধূমপানও মুখ শুষ্ক করে এবং মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে। নিয়মিত ধূমপান করলে মুখের স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ধূমপান বন্ধ করা মুখের দুর্গন্ধ কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক মুখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

পেঁয়াজ-রসুনেও বাড়তে পারে গন্ধ

পেঁয়াজ ও রসুনে থাকা কিছু সালফারযুক্ত যৌগ মুখে সাময়িক দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। এসব খাবার খাওয়ার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলকুচি করা, দাঁত ব্রাশ করা এবং জিহ্বা পরিষ্কার করলে গন্ধ কিছুটা কমতে পারে। তবে শুধু মুখ পরিষ্কার করলেই সবসময় গন্ধ পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে।

মুখ বন্ধ রাখলেই কি দুর্গন্ধ হয়?

লালা মুখের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশিক্ষণ কথা না বলে মুখ বন্ধ রাখলে মুখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং লালা উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। কথা বললে মুখ ও লালাগ্রন্থির নড়াচড়া হয়, যা লালা তৈরি করে। লালা মুখ পরিষ্কার রাখে এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করে। মুখ বন্ধ রাখলে লালা কম তৈরি হয়। লালা কমে গেলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়ে। মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়া মৃত কোষ ও খাদ্যকণা ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস তৈরি করে।

মুখ বন্ধ থাকলে বাতাস চলাচল কমে যায় এবং অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। মুখের ভেতরের দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস আটকে থাকে। ফলে যখন হঠাৎ মুখ খোলা হয়, তখন সেই জমে থাকা গন্ধ একসঙ্গে বের হয়।

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে দিনে দুবার ব্রাশ করার পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লসিং, জিহ্বা পরিষ্কার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন। এসব যত্ন নেওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন মুখে দুর্গন্ধ থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দাঁত ও মাড়ির সমস্যা ছাড়াও মুখের শুষ্কতা, সংক্রমণ বা শরীরের অন্য কোনো সমস্যার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী মুখের দুর্গন্ধের সম্পর্ক থাকতে পারে।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

Original Source
https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1156269
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Lifestyle