শরতে ঘরে কেমন পাপোশ ব্যবহার করবেন, যত্ন নেবেন যেভাবে
শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর হালকা রোদের মায়া। তবে ঋতু বদলের এই সময়টায় ঘরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা একটু কঠিনও হয়ে পড়ে। বাইরে ধুলা-বালি, শুকনো পাতা কিংবা ময়লা জুতার সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে নানা ধরনের ময়লা। দরজার সামনে কিংবা ঘরের বিভিন্ন অংশে রাখা পাপোশ তখন শুধু সাজের উপকরণ নয়, ঘর পরিষ্কার রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে শরতের জন্য পাপোশ বাছাই করার সময় শুধু দেখতে সুন্দর কি না, সেটিই যথেষ্ট নয়। কোন জায়গায় ব্যবহার করছেন, কতটা ধুলা জমে, পাপোশ কত সহজে পরিষ্কার করা যায়, বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি।
পাপোশের রঙেও ঘরের সাজের সঙ্গে মিল রাখুন
দরজার সামনে ময়লা আটকানোর পাপোশ রাখুন
বাড়ির প্রধান দরজার সামনে এমন পাপোশ রাখা ভালো, যার তন্তু তুলনামূলকভাবে শক্ত এবং জুতার নিচ থেকে ধুলা-ময়লা ঘষে তুলে নিতে পারে। নারিকেলের ছোবড়া, কয়ার বা শক্ত তন্তুর পাপোশ এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। বাইরে থেকে আসা ময়লা ঘরে ঢোকার আগেই অনেকটা আটকে যায়। তবে এমন পাপোশ বেছে নেওয়া ভালো, যা খুব বেশি ধুলা ঝরায় না এবং নিয়মিত ঝাড়ু বা পরিষ্কার করা যায়।
ঘরের ভেতরে নরম পাপোশ
প্রধান দরজার পর ঘরের ভেতরের অংশে তুলনামূলক নরম ও শোষণক্ষম পাপোশ ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে বাথরুম, রান্নাঘর বা বারান্দার কাছাকাছি জায়গায় পানি বা আর্দ্রতা জমলে মাইক্রোফাইবার বা শোষণক্ষম কাপড়ের পাপোশ কাজে দেয়। বেডরুম বা বসার ঘরের দরজার সামনে চাইলে তুলনামূলক পাতলা, ধোয়া সহজ এবং ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই পাপোশ রাখতে পারেন।
শরতে খুব ভারী পাপোশ এড়িয়ে চলুন
বর্ষার মতো অতিরিক্ত পানি না থাকায় শরতে খুব মোটা ও ভারী পাপোশ সব জায়গায় ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সহজে ধোয়া যায়, এমন পাপোশ বেছে নিন। বিশেষ করে ছোট ঘরে ভারী পাপোশে ধুলা জমে গেলে তা পরিষ্কার করাও ঝামেলার হতে পারে।
রঙ বাছাইয়েও থাকুক কৌশল
শরতের ঘর সাজে অফ-হোয়াইট, বেইজ, বাদামি, ধূসর কিংবা মাটির কাছাকাছি রঙের পাপোশ ভালো মানাতে পারে। তবে দরজার সামনে অতিরিক্ত হালকা রঙের পাপোশ রাখলে ধুলা ও ময়লা দ্রুত চোখে পড়বে। তাই প্রবেশপথে মাঝারি বা গাঢ় রঙের পাপোশ ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের ভেতরে হালকা রঙের পাপোশ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ও শান্ত আবহ তৈরি করা যায়।
পাপোশ পরিষ্কার রাখবেন যেভাবে
পাপোশ পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো নিয়মিত ঝাড়া। প্রতিদিন বা এক দিন পরপর বাইরে নিয়ে ভালোভাবে ঝেড়ে নিলে জমে থাকা ধুলার পরিমাণ কমে। তবে ঘরের ভেতরেই জোরে ঝাড়ার বদলে বাইরে পরিষ্কার করাই ভালো।
নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে নিন
কাপড়ের পাপোশ হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়ার পর পর্যাপ্ত রোদে সম্পূর্ণ শুকিয়ে তারপর ঘরে ব্যবহার করুন। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পাপোশ ব্যবহার না করাই ভালো। ভেজা পাপোশ দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে দুর্গন্ধ ও জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জেদি দাগ তুলবেন যেভাবে
পাপোশে চা, কফি, খাবার বা অন্য কোনো জেদি দাগ লাগলে দ্রুত পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। কুসুম গরম পানিতে সামান্য ডিশওয়াশিং লিকুইড মিশিয়ে দাগের জায়গায় আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করতে পারেন। কাপড়ের ধরন অনুযায়ী ভিনেগারও অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো দ্রবণ পুরো পাপোশে ব্যবহারের আগে ছোট ও চোখে না পড়া অংশে পরীক্ষা করে নিন, যাতে রঙ বা কাপড়ের ক্ষতি না হয়।
পাপোশের নিচ পরিষ্কার করুন
অনেকেই শুধু ওপরের অংশ পরিষ্কার করেন, কিন্তু পাপোশের নিচে জমে থাকা ধুলা ও ময়লার দিকে নজর দেন না। সপ্তাহে অন্তত একবার পাপোশ সরিয়ে নিচের মেঝেটিও পরিষ্কার করুন। রাবার বা অ্যান্টি-স্লিপ ব্যাকিং থাকলে সেটিও মুছে শুকিয়ে নিন।
একই পাপোশ সব জায়গায় ব্যবহার না করা
বাথরুমের পাপোশ, রান্নাঘরের পাপোশ ও প্রধান দরজার পাপোশ আলাদা রাখাই ভালো। রান্নাঘরে তেল বা খাবারের দাগ লাগতে পারে, বাথরুমের পাপোশে পানি ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। তাই এগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করা সহজ এবং স্বাস্থ্যকর।

মোজা ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকছে, যা করবেন
শরতে ঘরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে দামি পাপোশের প্রয়োজন নেই। বরং জায়গা অনুযায়ী সঠিক ধরনের পাপোশ বেছে নেওয়া, নিয়মিত ঝাড়া, প্রয়োজনমতো ধোয়া এবং ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন চশমায় স্ক্র্যাচ পড়ছে আপনার যে ভুলে
সুন্দর নকশার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাপোশ ঘরের সৌন্দর্যও বাড়াবে, পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা ধুলা-ময়লা ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া কমাতেও সাহায্য করবে।
সূত্র: বেটার হোমস অ্যান্ড গার্ডেনস, ইন্ডনেক্সা ডটকম
এসএকেওয়াই

