সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সময় আমাদের পেছনে ফেলছে?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
সময়—মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অথচ সবচেয়ে অবহেলিত সম্পদ। টাকা হারালে তা আবার উপার্জন করা যায়, সম্পদ নষ্ট হলে পুনর্গঠন সম্ভব, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হারানো সুযোগও ফিরে আসে। কিন্তু যে এক মুহূর্ত চলে যায়, তাকে কোনো মূল্যে ফিরিয়ে আনা যায় না। মানুষের জীবনের সাফল্য, ব্যর্থতা, সম্ভাবনা...

সময়—মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অথচ সবচেয়ে অবহেলিত সম্পদ। টাকা হারালে তা আবার উপার্জন করা যায়, সম্পদ নষ্ট হলে পুনর্গঠন সম্ভব, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হারানো সুযোগও ফিরে আসে। কিন্তু যে এক মুহূর্ত চলে যায়, তাকে কোনো মূল্যে ফিরিয়ে আনা যায় না। মানুষের জীবনের সাফল্য, ব্যর্থতা, সম্ভাবনা ও অপূর্ণতার আড়ালে তাই শেষ পর্যন্ত সময় ব্যবহারের গল্পই লুকিয়ে থাকে।

আমরা প্রায়ই বলি, ‘সময় নেই।’ অথচ একই দিনে একজন মানুষ বই পড়েন, কাজ শেষ করেন, পরিবারকে সময় দেন, নিজের শরীর ও মনকে যত্ন করেন; অন্যজন সারাদিন ব্যস্ত থেকেও দিনের শেষে উপলব্ধি করেন—গুরুত্বপূর্ণ কিছুই করা হয়নি। পার্থক্যটি সময়ের পরিমাণে নয়, সময় ব্যবস্থাপনায়। পৃথিবীর সব মানুষের জন্য দিন ২৪ ঘণ্টারই। সফল মানুষ অতিরিক্ত সময় পান না; তাঁরা প্রাপ্ত সময়কে অগ্রাধিকার অনুযায়ী ব্যবহার করতে শেখেন।

আধুনিক জীবনে সময়ের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এখন শুধু অলসতা নয়, মনোযোগের বিচ্ছিন্নতা। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন, অনলাইন বিনোদন এবং অবিরাম তথ্যপ্রবাহ আমাদের মনকে এক কাজ থেকে আরেক কাজে ছুড়ে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার কাজের মধ্যে বিঘ্ন ঘটলে মানুষের মনোযোগ ফিরে পেতে অতিরিক্ত সময় লাগে। ফলে কয়েক মিনিটের একটি ‘ছোট বিরতি’ কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদনশীল সময় গ্রাস করে নেয়, তা অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না।

জীবনকে বড় করে তোলে সময়ের দৈর্ঘ্য নয়, সময়ের গভীরতা। প্রতিটি সকাল আমাদের হাতে একটি নতুন পৃষ্ঠা তুলে দেয়। সেখানে কী লিখব, কতটুকু লিখব, আর কতটুকু সাদা রেখে দেব—সিদ্ধান্তটি আমাদের। সময় চলে যাচ্ছে; প্রশ্ন শুধু, আমরা কি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সময় আমাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে?

সময়ের অপচয় সব সময় দৃশ্যমান নয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকা যেমন সময়ের অপচয়, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বৈঠক, দীর্ঘ আলাপ, সিদ্ধান্তহীনতা, অতিরিক্ত পরিকল্পনা কিংবা একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা করাও সময় নষ্ট করে। বিশেষ করে ‘মাল্টিটাস্কিং’কে আমরা দক্ষতার লক্ষণ মনে করি। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক একই সময়ে একাধিক জটিল কাজ করার চেয়ে কাজ বদলাতে গিয়ে বেশি শক্তি ও মনোযোগ হারায়। ফলে ব্যস্ততা বাড়ে, উৎপাদনশীলতা নয়।

সময়কে কাজে লাগানোর প্রথম শর্ত হলো নিজের কাছে স্পষ্ট হওয়া—আমি আসলে কী করতে চাই? জীবনের বড় লক্ষ্য অস্পষ্ট থাকলে প্রতিদিনের ছোট কাজগুলোই আমাদের সময়ের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য যদি পরীক্ষায় ভালো ফল করা হয়, তবে তার প্রতিদিনের সময়সূচিতে পড়াশোনা, পুনরাবৃত্তি ও বিশ্রামের জায়গা নির্ধারিত থাকতে হবে। একজন পেশাজীবীর ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। লক্ষ্য যত স্পষ্ট হবে, কোন কাজে সময় দেব আর কোন কাজ এড়িয়ে যাব—সিদ্ধান্ত নেওয়া তত সহজ হবে।

তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই সময় ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ হয় না। বড় লক্ষ্যকে ছোট ও বাস্তবসম্মত কাজের মধ্যে ভাগ করতে হয়। ‘বই পড়ব’ একটি অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত; ‘প্রতিদিন রাতে ৩০ মিনিট বই পড়ব’ একটি কার্যকর পরিকল্পনা। ‘শরীর ভালো রাখব’ একটি আকাঙ্ক্ষা; ‘প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট হাঁটব’ একটি অভ্যাস। সময় ব্যবস্থাপনার মূল শক্তি আসলে বড় সিদ্ধান্তে নয়, ছোট ছোট নিয়মিত অভ্যাসে।

এখানে অগ্রাধিকারের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কাজ সমান জরুরি নয়। কিছু কাজ এখনই করতে হয়, কিছু কাজ গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অপেক্ষা করতে পারে, আবার কিছু কাজ দেখতে জরুরি মনে হলেও বাস্তবে তেমন মূল্য বহন করে না। জীবনের প্রতিটি দিন যদি অন্যের জরুরি কাজ সামলাতেই কেটে যায়, তাহলে নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য সময় কখনোই পাওয়া যাবে না। তাই ‘না’ বলতে শেখাও সময় ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য দক্ষতা।

বাংলাদেশের কর্মজীবনে এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি। অফিসে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকা মানেই বেশি কাজ করা নয়। উৎপাদনশীল কর্মপরিবেশে কর্মীর ফলাফল, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, অপ্রয়োজনীয় সভা এবং কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতাকে কর্মদক্ষতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। এতে কর্মীর সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাও কমে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি এখানে একই সঙ্গে আশীর্বাদ ও চ্যালেঞ্জ। ক্যালেন্ডার, রিমাইন্ডার, নোট-অ্যাপ, টাস্ক ম্যানেজার কিংবা অনলাইন সহযোগিতার মাধ্যমে কাজকে অনেক বেশি গোছানো যায়। কিন্তু প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে গিয়ে যদি প্রযুক্তিই আমাদের ব্যবহার করতে শুরু করে, তাহলে বিপদ। প্রতিটি নোটিফিকেশনের উত্তর দেওয়া জরুরি নয়। প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখা প্রয়োজন নেই। প্রতিটি ফোনকলও একই মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ নয়। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ই-মেইল ও বার্তা দেখার অভ্যাস মনোযোগকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে।

সময় ব্যবস্থাপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্রাম। আমাদের সমাজে অনেক সময় নিরবচ্ছিন্ন কাজ করাকে সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অথচ মানুষ যন্ত্র নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক বিশ্রাম, পরিবারকে সময় দেওয়া, প্রকৃতির সংস্পর্শ এবং শরীরচর্চা—এসব সময়ের অপচয় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতার বিনিয়োগ। ক্লান্ত মস্তিষ্ক ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেও যে ফল দিতে পারে না, সতেজ মন অনেক সময় অল্প সময়ে তার চেয়ে ভালো ফল দিতে পারে।

বিশেষ করে ঘুমকে অবহেলা করা বিপজ্জনক। পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ, স্মৃতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মানসিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রাত জেগে কাজ করে দিনের সময় বাড়ানোর চেষ্টা অনেক সময় উল্টো উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। তাই সময় ব্যবস্থাপনা মানে দিনের প্রতিটি মিনিটকে কাজে ঠেসে দেওয়া নয়; বরং কাজ, বিশ্রাম ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করা।

সময়ের মূল্য বোঝার জন্য ইতিহাসও আমাদের বড় শিক্ষা দেয়। বিশ্বের বহু সফল মানুষ তাঁদের জীবনের একটি বড় অংশ ব্যয় করেছেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, উদ্যোক্তা কিংবা রাষ্ট্রনায়ক—সবার ক্ষেত্রেই একটি বিষয় লক্ষণীয়: তাঁরা সময়কে কেবল ঘড়ির কাঁটা হিসেবে দেখেননি; দেখেছেন সম্ভাবনা হিসেবে। একটি ঘণ্টা তাঁদের কাছে ছিল শেখার সুযোগ, সৃষ্টির সুযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ।

কিন্তু সময়ের সদ্ব্যবহারকে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখলে বিষয়টির বড় অংশ অনালোচিত থেকে যায়। একটি জাতির উন্নয়নও নির্ভর করে সে জাতি সময়কে কতটা মূল্য দেয় তার ওপর। সরকারি দপ্তরে একটি ফাইল অকারণে মাসের পর মাস পড়ে থাকা, আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর বিলম্ব, যানজটে কর্মঘণ্টার অপচয়—এসব কেবল ব্যক্তির সময় নষ্ট করে না; জাতীয় অর্থনীতিরও ক্ষতি করে। সময়ের অপচয় তাই ব্যক্তিগত দুর্বলতা থেকে রাষ্ট্রীয় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশে যানজটের কারণে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। রাজধানীর একজন কর্মজীবী মানুষ যদি প্রতিদিন যাতায়াতে অতিরিক্ত দুই-তিন ঘণ্টা ব্যয় করেন, তাহলে বছরে তার কত সময় হারিয়ে যায়, একবার হিসাব করলেই বিষয়টির ভয়াবহতা বোঝা যায়। উন্নত নগরপরিকল্পনা, কার্যকর গণপরিবহন, ডিজিটাল সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক দক্ষতা তাই শুধু নাগরিক সুবিধার বিষয় নয়—এগুলো সময় বাঁচানোর জাতীয় অবকাঠামো।

সময়কে কাজে লাগানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে দিনের শুরুতে অল্প কয়েক মিনিট ব্যয় করে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্ধারণ করা। তিন বা চারটি কাজকে ‘অবশ্যই করতে হবে’ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। বড় কাজকে নির্দিষ্ট সময়ের অংশে ভাগ করা, এক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া এবং দিনের শেষে কয়েক মিনিট নিজের কাজ পর্যালোচনা করা—এই সাধারণ অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

একই সঙ্গে আমাদের সন্তানদের সময়ের মূল্য শেখাতে হবে। শুধু পরীক্ষার ফল নয়, সময় ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ববোধ, মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও বিশ্রামের সংস্কৃতিও শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত। শিশুকে যদি সব সময় বলা হয় ‘পড়ো’, কিন্তু কখন পড়বে, কখন খেলবে, কখন বিশ্রাম নেবে—তার কোনো কাঠামো না দেওয়া হয়, তাহলে সে সময়ের মালিক হওয়ার বদলে সময়ের চাপে বেড়ে উঠবে।

জীবনের শেষ হিসাবটি আসলে টাকা-পয়সা দিয়ে হয় না; হয় সময় দিয়ে। কত বছর বেঁচেছি—এটি বড় কথা নয়; সেই বছরগুলোতে কতটা অর্থপূর্ণভাবে বেঁচেছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে বিসর্জন দিই। ভাবি, ‘আরেকটু পরে সময় পাব।’ কিন্তু সেই ‘পরে’ অনেক সময় আর আসে না। সন্তান বড় হয়ে যায়, বাবা-মা বৃদ্ধ হন, বন্ধুত্ব দূরে সরে যায়, সুযোগ হারিয়ে যায়। তখন উপলব্ধি হয়—জীবনের সবচেয়ে দামি সম্পদটি আমাদের হাতের মুঠো থেকে নীরবে বেরিয়ে গেছে।

তাই সময়কে কাজে লাগানোর অর্থ সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকা নয়। বরং কোন কাজটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, কোন মানুষগুলো সত্যিই আপন, কোন স্বপ্নটি সত্যিই নিজের এবং কোন মুহূর্তটি আর ফিরে আসবে না—সেই বোধ নিয়ে বেঁচে থাকা। ঘড়ির কাঁটা কারও জন্য থামে না। ধনী-দরিদ্র, ক্ষমতাবান-সাধারণ, সফল-ব্যর্থ—সবার জন্য সময়ের বরাদ্দ সমান।

আমাদের হাতে হয়তো ভবিষ্যৎ নেই, কিন্তু বর্তমান আছে। গতকালকে বদলানোর ক্ষমতা নেই, কিন্তু আজকে বদলে আগামীকালকে ভিন্ন করার সুযোগ আছে। সেই সুযোগের নামই সময়। যে মানুষ সময়কে সম্মান করতে শেখে, সে শুধু নিজের জীবনকে গোছায় না; নিজের চারপাশকেও বদলাতে শুরু করে। আর যে সমাজ সময়ের মূল্য বোঝে, সে সমাজ অপেক্ষার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে কাজের সংস্কৃতিতে প্রবেশ করে।

শেষ পর্যন্ত জীবনকে বড় করে তোলে সময়ের দৈর্ঘ্য নয়, সময়ের গভীরতা। প্রতিটি সকাল আমাদের হাতে একটি নতুন পৃষ্ঠা তুলে দেয়। সেখানে কী লিখব, কতটুকু লিখব, আর কতটুকু সাদা রেখে দেব—সিদ্ধান্তটি আমাদের। সময় চলে যাচ্ছে; প্রশ্ন শুধু, আমরা কি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সময় আমাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে?

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।
drharun.press@gmail.com

এইচআর/এএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/opinion/article/1156287
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Business