চীনে শিক্ষক দিবস: ‌যে ফুল একদিন ফিরে আসে

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
একটি ফুল কখনো কখনো অনেক কথার চেয়েও বেশি কিছু বলে। একটি ছোট্ট ফুলের তোড়ায় মিশে থাকে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতি। চীনে শিক্ষক দিবসের ফুল আমার কাছে ঠিক তেমনই এক স্মৃতির প্রতীক। তবে এই ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার জীবনের একটি বিশেষ যাত্রা। একসময় চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ...

একটি ফুল কখনো কখনো অনেক কথার চেয়েও বেশি কিছু বলে। একটি ছোট্ট ফুলের তোড়ায় মিশে থাকে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতি। চীনে শিক্ষক দিবসের ফুল আমার কাছে ঠিক তেমনই এক স্মৃতির প্রতীক।

তবে এই ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার জীবনের একটি বিশেষ যাত্রা। একসময় চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ছিলাম সেই শিক্ষার্থী, যে শিক্ষকের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানাত। আজ আমি নিজেই একজন শিক্ষক; আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।

সময়ের এই পরিবর্তন আমাকে বারবার ভাবায়। একজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা ফুল কীভাবে একদিন একজন শিক্ষকের হাতে ফিরে আসে? আর সেই ফুল কীভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শ্রদ্ধা, শিক্ষা ও মানবিকতার একটি সুন্দর সম্পর্ক বহন করে?

চীনে প্রথম আসি ২০১৮ সালে, একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে। চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় চীনের শিক্ষক দিবস আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আমিও সেই সময় শিক্ষকদের হাতে ফুল তুলে দিয়েছি এবং বলেছি, “চিওশি চিয়ে খুয়াইলা” অর্থাৎ “শুভ শিক্ষক দিবস।”

তখন বিষয়টি আমার কাছে ছিল একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুন্দর দিন। কিন্তু কখনো ভাবিনি, কয়েক বছর পর একই দেশের অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে আমিই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করব।

আজ আমি ফুচিয়ান প্রদেশের সানমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। এবারের শিক্ষক দিবসে যখন আমার শিক্ষার্থীরা ফুল হাতে এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানাল, তখন অনুভূতিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফুল একই, কিন্তু তার অর্থ যেন বদলে গেছে। ফুল হাতে নিয়ে হঠাৎ মনে পড়ে গেল চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোর কথা। যখন আমি ছিলাম একজন শিক্ষার্থী, আর আমার সামনে ছিলেন আমার শিক্ষক।

তখন বুঝলাম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান দেওয়া ও নেওয়ার সম্পর্ক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, উৎসাহ, অনুপ্রেরণা এবং এক ধরনের গভীর মানবিক বন্ধন।

এবারের শিক্ষক দিবসে আরেকটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন। তারা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষক ও গবেষক হিসাবে একাডেমিক গবেষণাপত্র প্রকাশ, “সানমিং ইউনিভার্সিটি লেই ফাং ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার টিম” গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য কৃতিত্বের পূর্ণ স্বীকৃতি জানিয়েছেন।

একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব যখন শিক্ষকদের কাজকে স্বীকৃতি দেয়, তখন তা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা থাকে না। বরং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও আত্মমর্যাদাকে শক্তিশালী করে।

শিক্ষক দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালিত হলেও এর মূল উদ্দেশ্য একই, তা হলো শিক্ষকদের অবদান ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। ইউনেস্কো ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যা ১৯৯৪ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে। তবে অনেক দেশে নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী ভিন্ন দিনে দিবসটি পালন করা হয়।

চীনে ১০ সেপ্টেম্বর, ভারতে ৫ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসের প্রথম পূর্ণ সপ্তাহের মঙ্গলবার, ব্রাজিলে ১৫ অক্টোবর, মেক্সিকোতে ১৫ মে, তুরস্কে ২৪ নভেম্বর, থাইল্যান্ডে ১৬ জানুয়ারি, ভিয়েতনামে ২০ নভেম্বর এবং মালয়েশিয়ায় ১৬ মে শিক্ষক দিবস পালিত হয়।

শিক্ষক দিবসে দেশগুলোতে দিবসটি উপলক্ষে ফুল ও উপহার দেওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্মাননা প্রদান, আলোচনা সভা কিংবা প্রাক্তন শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতো নানা আয়োজন থাকে। আয়োজনের ধরন ভিন্ন হলেও এর মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

তবে চীনের শিক্ষক দিবসের বিশেষত্ব আমার কাছে অন্য জায়গায়। দিবসটিতে শুধু শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানানোর একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের সম্মান জানায় এবং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরে।

এর মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকারী নন; বরং তারা জ্ঞান ও মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে একটি প্রজন্মের চিন্তা, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শিক্ষার্থী থাকাকালীন মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অফ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন

চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক দিবস চালু হয় ১৯৮৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধু শিক্ষকদের সম্মান জানানো নয়; বরং সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানো এবং শিক্ষক, জ্ঞান ও প্রতিভাকে সম্মান করার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা। পরবর্তীতে চীনে শিক্ষক আইনেও ১০ সেপ্টেম্বরকে শিক্ষক দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এ বছর ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চীনে পালিত হয়েছে ৪২তম শিক্ষক দিবস। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দিনটি চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করার পাশাপাশি শিক্ষা ও শিক্ষকতার প্রতি সামাজিক সম্মানকে আরও গভীর করেছে।

চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপকতাও এই গুরুত্বকে বোঝায়। দেশটিতে বর্তমানে বিভিন্ন স্তর ও ধরনের প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি। ১৯৮৫ সালে চীনে পূর্ণকালীন শিক্ষক ছিলেন প্রায় ৯৩ লাখ ২০ হাজার। চার দশক পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষকের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয়; এটি চীনের শিক্ষা ও শিক্ষকতার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব দেওয়ার একটি চিত্রও তুলে ধরে। শিক্ষক দিবসকে তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। এর পেছনে রয়েছে জ্ঞান, শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি সম্মানের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

চীনা সভ্যতায় শিক্ষককে সম্মান করার ঐতিহ্য বহু পুরোনো। আধুনিক শিক্ষক দিবস সেই ঐতিহ্যকে নতুন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। অর্থাৎ, শ্রদ্ধা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা ধীরে ধীরে একটি সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

আমার নিজের অভিজ্ঞতায়, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক দিবসের সবচেয়ে অর্থবহ দিকগুলোর একটি হলো প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের অংশগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী নেতৃত্ব যখন শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন, ফুল দেন, শুভেচ্ছা জানান কিংবা তাদের কাজের স্বীকৃতি দেন, তখন একজন শিক্ষক বুঝতে পারেন যে তার শ্রম ও অবদান মূল্যায়িত হচ্ছে।

একজন শিক্ষক বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দেন, সময় দেন, ধৈর্য ধরেন, উৎসাহ দেন। অনেক সময় শুধু পাঠদান নয়, একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সংকটেও তাকে সাহস দিতে হয়। তাই বছরের একটি দিন যদি শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান মিলে শিক্ষককে বলে যে “আমরা আপনার কাজকে মূল্য দিই।” তাহলে সেই কথার আবেগ ও প্রভাব অনেক গভীর হতে পারে।

আমার কাছে শিক্ষক দিবসের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো এর একটি অবিরাম বৃত্ত রয়েছে। একসময় আমি ছিলাম ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিক্ষার্থী। আজ আমি ফুল গ্রহণ করা একজন শিক্ষক। আগামী দিনে আমার শিক্ষার্থীরাও হয়তো শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা কিংবা বিভিন্ন পেশার মানুষ হবে। তাদের কেউ হয়তো একদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে নিজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করবে।

তখন এই ফুলের সঙ্গে আমার মতোই তাদেরও কোনো স্মৃতি জড়িয়ে যাবে। এভাবেই এক প্রজন্মের শ্রদ্ধা আরেক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে।

শিক্ষক হওয়ার পর আমি শিক্ষকতার দায়িত্বকেও নতুনভাবে বুঝতে শিখেছি। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা সাধারণত শিক্ষককে জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা দেওয়া একজন মানুষ হিসেবে দেখি। কিন্তু শিক্ষক হওয়ার পর বোঝা যায়, এর পেছনে কত বড় দায়িত্ব রয়েছে।

শিক্ষক শুধু একটি সিলেবাস শেষ করেন না, একটি বিষয় পড়িয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান না। একজন শিক্ষক একজন তরুণের আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারেন, তার কৌতূহল জাগিয়ে তুলতে পারেন, মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারেন এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ার সাহস দিতে পারেন।

সানমিং বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের শিক্ষক দিবসে পাওয়া ফুলগুলো তাই আমার কাছে শুধু ফুল নয়। এগুলো আমার যাত্রার একটি প্রতীক। এগুলো আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে আমি কোথা থেকে শুরু করেছিলাম, কতটা পথ পেরিয়ে আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি এবং একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সামনে কত বড় দায়িত্ব রয়েছে।

আরও একটি বিষয় উপলব্ধি করেছি, শিক্ষা শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই। প্রতিটি পাঠের পেছনে থাকেন একজন শিক্ষক, যিনি তার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। আবার অনেক সময় একজন শিক্ষকও তার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নতুন কিছু শেখেন। তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একে অপরের পরিপূরক।

চীনে শিক্ষক দিবসের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, কৃতজ্ঞতাকে যখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করা যায় এবং শ্রদ্ধাকে যখন প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধে রূপ দেওয়া যায়, তখন তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

একজন বিদেশি শিক্ষক হিসেবে এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে আরও বিশেষ। কারণ আমি এই ঐতিহ্যের দুই দিকই দেখেছি। একসময় আমি চীনে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ফুল তুলে দিয়েছি। আজ একই দেশে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করছি।

আমি যে ফুলগুলো একদিন আমার শিক্ষকদের দিয়েছিলাম, সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো যেন অন্য রূপে আমার কাছেই ফিরে এসেছে। সেই ফুল এখন শুধু ফুল নয়; এটি আমার জীবনের একটি পূর্ণ বৃত্তের প্রতীক—শিক্ষা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে চলার এক সুন্দর গল্প।

হয়তো এটাই শিক্ষক দিবসের প্রকৃত অর্থ। শিক্ষককে শুধু একটি দিনে ফুল দেওয়া নয়; বরং সারা বছর মনে রাখা যে জ্ঞান, শিক্ষা এবং যারা সেই জ্ঞান আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন কেন তাদের সম্মান করা গুরুত্বপূর্ণ।

ফুল শুকিয়ে যায়, কিন্তু শ্রদ্ধার স্মৃতি শুকায় না। একজন শিক্ষার্থীর হাতে যে ফুল একদিন শিক্ষকের কাছে পৌঁছায়, সময়ের সঙ্গে সেটিই আবার নতুন কোনো শিক্ষার্থীর হাতে ফিরে আসে। এভাবেই শিক্ষা ও শ্রদ্ধার এই বৃত্ত চলতে থাকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।

লেখক:
মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম, পিএইচডি, চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের সানমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওভারসিজ এডুকেশন (স্কুল অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস)-এর সিনিয়র লেকচারার ও গবেষক।

এমআরএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/probash/news/1156296
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World