যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড
মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্নের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউজের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
হ্যাসেট বলেন, ডিজেলের উচ্চ দাম এরই মধ্যে পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, এর মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্ন। এসব অঞ্চলের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাঘাতের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও পড়ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এমনকি, দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে কিছু জ্বালানি স্টেশনের পাম্পে সঠিক মূল্য পর্যন্ত দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।
গ্যাসবাডি নামের জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্মের কর্মকর্তা প্যাট্রিক ডি হান জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার পাঁচটি জ্বালানি স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলারে উঠেছে। এসব স্টেশনের ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন বোর্ডে সর্বোচ্চ চারটি সংখ্যা দেখানোর সুযোগ থাকায় তার বেশি দাম সেখানে প্রদর্শন করা সম্ভব নয়।
এদিকে, রেকর্ড ডিজেলের দামে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাকচালক ও কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে বলেও স্বীকার করেন হ্যাসেট। তিনি বলেন, পরিস্থিতি তাদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ‘সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে হ্যাসেট বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে ‘সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে’। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে জ্বালানি বাজারের বর্তমান অস্থিরতার সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসএএইচ

