মেঘদূতের ছয় বছর পূর্তিতে লেখক-সুহৃদ মিলনমেলা
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার নান্দনিক আবহে অনুষ্ঠিত হলো মেঘদূত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও লেখক-সুহৃদ মিলনমেলা-২০২৬।
‘সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়’কে ধারণ করে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বানান ও উচ্চারণ গবেষক রাশেদ চৌধুরী। স্বাগত ও সাংগঠনিক পর্বে উপস্থিত ছিলেন মেঘদূতের সাধারণ সম্পাদক কবি ও কথাসাহিত্যিক খান আফিফা লুনা, আহ্বায়ক প্রাবন্ধিক ও গবেষক গরীব নেওয়াজ এবং সদস্যসচিব সংগীতশিল্পী লুৎফুন নাহার পাখি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম
সংস্কৃতিচর্চাকে সমাজ বদলের হাতিয়ার করার আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একটি আলোকিত ও মানবিক সমাজ নির্মাণে সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চার কোনো বিকল্প নেই। কবিতা, গল্প, গান ও শিল্পচর্চা মানুষের ভেতরের সৌন্দর্যকে জাগিয়ে তোলে এবং সমাজে সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বোধ তৈরি করে। নতুন প্রজন্মকে বই, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি জাতির মনন, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম শক্তি। মেঘদূতের মতো সংগঠনগুলো নিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সৃষ্টিশীলতার পথ আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়
সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ চৌধুরী বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মূল শক্তি মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করা। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও একটি ভালো কবিতা, একটি সুন্দর গল্প কিংবা একটি নির্মল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী আলো জ্বালাতে পারে। মেঘদূতের ছয় বছরের পথচলা সেই আলোরই একটি ধারাবাহিক প্রয়াস।
তিনি বলেন, লেখক-সুহৃদদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৃষ্টিশীলতার আদান-প্রদান সাহিত্যাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আগামী দিনে মেঘদূতের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে ছিল স্ব-রচিত কবিতা পাঠ, লেখক পরিচিতি, নতুন গ্রন্থের সঙ্গে পরিচয়, সাহিত্যপত্র পাঠ উন্মোচন, সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
কবিতা ও কথার আবেশ, সুর ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে লেখক-সুহৃদদের এক প্রাণের মিলনমেলা। ছয় বছরের পথচলার স্মৃতি ও আগামী দিনের স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে মেঘদূতের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, সংস্কৃতির আলো যত ছড়াবে, সমাজের অন্ধকার ততই সরে যাবে।
এমএমএআর


