বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া উৎসব, পুরস্কার পেল ২ হাজার শিক্ষার্থী
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির মূল্যায়ন পর্বে কৃতিত্ব অর্জনকারী রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই হাজার ১২০ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব চলছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত বছর রাজশাহী মহানগরের ৪৯টি স্কুলের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস ও জ্ঞান অর্জনের মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়ন পর্বে কৃতিত্ব অর্জনকারী ২ হাজার ১২০ শিক্ষার্থীকে এবার পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনটি ক্যাটাগরিতে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণ করা হয়
পুরস্কার পাওয়া কাটাখালি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়া ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি এর আগেও তিনটি পুরস্কার পেয়েছি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন উদ্যোগ আমাদের বই পড়ার দিকে ধাবিত করছে। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা অনেক নতুন বিষয় জানতে পারছি এবং নিজেদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারছি। আমি চাই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ুক।’
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা বলেন, ‘পুরস্কার পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। বই পড়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আজকের অনুষ্ঠানে আমার অভিভাবকরাও এসেছেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন উদ্যোগ আমাদের বই পড়তে আরও উৎসাহিত করছে।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ সাধনের জন্য সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এর মধ্যে বইপড়া কর্মসূচি অন্যতম। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় ১ হাজার ৫০০ স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই পড়ানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মহানগরের ৪৯টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজকের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যায়ন পর্বে কৃতিত্ব অর্জনকারী তিন ক্যাটাগরির ২ হাজার ১২০ শিক্ষার্থীর হাতে আমরা পুরস্কার তুলে দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে বই পড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে আরও সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বই পড়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার প্রতি আগ্রহী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার পরিধি বাড়বে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মনকে সুন্দর ও মানবিক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গত ৪৮ বছর ধরে সারাদেশে বইপড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবছর দেশজুড়ে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি এবং তাদের মননশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম
