নদীতে সড়ক-জিওব্যাগও বিলীন, ভাঙন দেখতে মানুষের ভিড়
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাটে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে দর্শনার্থীদের না যাওয়ার জন্য সতর্ক করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
সম্প্রতি তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে হাজিরহাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে নদীতীরের সড়ক ও পাউবোর দেওয়া জিওব্যাগের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকিতে পড়ে বেশ কয়েকটি বসতঘর ও কবরস্থান। এরই মধ্যে ভাঙনের আশঙ্কায় কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের স্থাপন করা সাইনবোর্ডে বলা হয়েছে, ‘হাজীরহাটে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। দয়া করে কেউ এ স্থানে ঘুরতে যাবেন না। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ এ বিষয়ে কাজ করছে। সবাই নির্দেশনা মেনে চলুন।’
তবে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও প্রতিদিন অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন। নদীর তীরের খুব কাছাকাছি গিয়ে ভাঙন দেখার পাশাপাশি অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে হাজিরহাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’
ইউএনও বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এখানে বিভিন্ন দর্শনার্থী ঘুরতে আসছেন। এতে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মানুষকে সচেতন করার জন্যই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।’
ইউএনও আরও বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
মাহমুদ হাসান রায়হান/এসজেডএইচ/এএসএম


