হুথির দখলে লোহিত সাগর, শুধু নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ নাকি বড় কোনো খেলা?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত এবং আকস্মিক অগ্রগতি সামরিক দিক থেকে এক চোখধাঁধানো বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটিকে বিশ্বব্যাপী যেভাবে সম্পূর্ণ খেলা বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা (গেম-চেঞ্জার) হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে, প্রকৃত কৌশলগত হিসাব-নিকাশ কিন্তু কে...

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত এবং আকস্মিক অগ্রগতি সামরিক দিক থেকে এক চোখধাঁধানো বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটিকে বিশ্বব্যাপী যেভাবে সম্পূর্ণ খেলা বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা (গেম-চেঞ্জার) হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে, প্রকৃত কৌশলগত হিসাব-নিকাশ কিন্তু কেবল অতটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

এই আগ্রাসনের মাধ্যমে হুথিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করেছে। তবে বিষয়টি নতুন নয়; ২০২৩ সাল থেকেই তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মার্কিন, ইসরায়েলি ও সম্প্রতি সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছিল। নতুন এই সামরিক সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, ইয়েমেনের বর্তমান সরকারি বাহিনী আপাতত হুথিদের পরাজিত করার মতো অবস্থানে নেই।

লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ও হুদায়দাহের মতো প্রধান বন্দর নগরী দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে এরই মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাগে আনার একটি মারণাস্ত্রে পরিণত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির সংকটের আগেই হুথিরা লোহিত সাগরে চরম অস্থিরতা তৈরি করে।

হুথি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের আল-মুরতাদা বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, সৌদি জাহাজে অবরোধ তো জুলাই মাস থেকেই কার্যকর রয়েছে; তাই বাব আল-মান্দেব সম্পূর্ণ দখলে নেওয়ার আলাদা কোনো প্রয়োজন তাদের ছিল না।

তবে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ও ছোট ছোট কৌশলগত দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফলে হুথিদের জন্য এখন ছোট পাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে সহজেই জাহাজে হামলা চালানো, উঠা কিংবা সাগরে মাইন পুঁতে চলাচল অবরুদ্ধ করা আরও সহজ হয়ে গেছে। দক্ষিণ আরব উপদ্বীপের দুই প্রধান চোকপয়েন্ট- হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব- উভয় স্থান থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে।

কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক অগ্রগতির প্রভাব কেবল নৌপথে হামলা বা তেলের বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর চেয়ে বড় বাস্তবতা হলো লোহিত সাগরে হুথি সংকট সহজে শেষ হওয়ার নয়। চলতি বছরের শুরুতে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার যখন দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তখন ইয়েমেনের হুথি-বিরোধী শিবিরে একধরনের নতুন ঐক্যের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি একটি সমন্বিত সামরিক কমান্ডের কথা বারবার বলছিলেন, যা হুথিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আশা জাগায়।

এমনকি, উপকূলীয় সমতল অঞ্চলে সৌদি বিমান বাহিনীর শক্তি ব্যবহার করে এক বড় ধরণের অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছিল, কারণ সেখানকার স্থানীয় জনগণ হুথিদের প্রথাগত সমর্থক ছিল না। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে সানা’র পূর্বে আল-জাওফে ইয়েমেন সরকারের অর্জিত কিছুটা সাফল্য এক লহমায় ধুলিসাৎ করে দিয়েছে হুথিদের এই ঝটিকা অভিযান। মাসের পর মাস ধরে দেখানো সরকারের কৃত্রিম ঐক্য ভেঙে পড়ে এখন নিজেদের মধ্যে পরাজয়ের কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।

এই অগ্রগতির মাধ্যমে হুথিরা রিয়াদকে খুব স্পষ্ট একটি বার্তা পাঠিয়েছে- ‘ইয়েমেনে আপনাদের মিত্ররা আমাদের হারানোর ক্ষমতা রাখে না।’ ফলে সৌদি আরবকে এখন হুথিদের শর্ত মেনেই সমঝোতায় আসতে হতে পারে। যেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন রিয়াদ কর্তৃক পরিশোধ, ইয়েমেনের তেল-গ্যাস সম্পদের লভ্যাংশ এবং হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দরে বিমান ও জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার মতো দাবি যুক্ত রয়েছে। ইয়েমেন সরকার নিজেদের পুনর্গঠিত করার আগেই হুথিরা তাদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।

এখন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বিধা। হুথিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালানো যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হাত গুটিয়ে বসে থাকাও বড় বিপদ ডেকে আনবে। অতীতেও শক্ত অবস্থানে থাকলেই হুথিরা নতুন নতুন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে। ফলে এখন কোনো সাময়িক চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে ইয়েমেন সংকট নতুন করে আবার বিস্ফোরিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের নীতি নির্ধারকরা হয়তো বিষয়টিকে ভবিষ্যতে পুষে না রেখে এখনই হুথি সমস্যার মুখোমুখি একটি স্থায়ী চূড়ান্ত সুরাহা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি

এসএএইচ

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1156361
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World