‘মাফিয়াদের’ নিয়ন্ত্রণে পরিবহন খাত, বাড়ছে যাত্রী হয়রানি
আগামীকাল ১৩ সেপ্টেম্বর ‘যাত্রী অধিকার দিবস’। দিবসটি সামনে রেখে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, দেশে দফায় দফায় বাড়ছে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য। একই সঙ্গে কমছে যাতায়াতের নিরাপত্তা।
সংগঠনটির দাবি, বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন এলেও পরিবহন খাতে তেমন অগ্রগতি হয়নি; এ খাত এখনো ‘মাফিয়াদের’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য, পরিবহনে বিশৃঙ্খলা, সড়ক দুর্ঘটনা ও গণপরিবহনে অনিয়মের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের প্রতীকী দিবস হিসেবে প্রতিবছর দেশে ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে অষ্টমবারের মতো দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা জরুরি।’ দিবসটি উপলক্ষে যাত্রী অধিকার ও সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘব, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, যাত্রী হয়রানি, পরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধের মাধ্যমে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি সামনে আনতেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে দেশে ১৩ সেপ্টেম্বর ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ পালন শুরু হয়। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ যাত্রী অধিকার ও সড়ক নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে দিবসটি পালন করে আসছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতাসহ নানা কারণে দেশে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য দফায় দফায় বাড়ছে। একই সঙ্গে কমেছে মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তা।
পথে পথে ছিনতাই, সড়কে ডাকাতি, দুর্ঘটনাসহ নানা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতাও বন্ধ হচ্ছে না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও পরিবহন খাতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। পরিবহন খাত এখনো ‘মাফিয়াদের’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এসব বাস্তবতায় এবারের ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
এমইউ/এমএএইচ/
