আল্লাহর রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ইমানের দ্বিতীয় শাখা হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষের হেদায়াতের জন্য যেসব নবী-রাসুল প্রেরিত হয়েছেন, তাদের প্রতিও বিশ্বাস রাখা। এ বিশ্বাসের অর্থ হলো আল্লাহ যাদের রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন, তারা সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত ছিলেন এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আ...

ইমানের দ্বিতীয় শাখা হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষের হেদায়াতের জন্য যেসব নবী-রাসুল প্রেরিত হয়েছেন, তাদের প্রতিও বিশ্বাস রাখা। এ বিশ্বাসের অর্থ হলো আল্লাহ যাদের রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন, তারা সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত ছিলেন এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

আমাদের নবী হজরত মুহাম্মাদের (সা.) প্রতি ইমানের বিষয়টি আরও ব্যাপক। তাকে শুধু তার সময়ের মানুষের জন্য নয়, কেয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষ ও জিনের জন্য নবী ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে। অর্থাৎ তার নবুওয়ত ও রেসালাত কোনো নির্দিষ্ট জাতি, অঞ্চল বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত শেষ নবী।

কোরআনেও আল্লাহর প্রতি ইমানের সঙ্গে তাঁর রাসুলের প্রতি ইমানকে পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ইমান আনো। (সুরা নিসা: ১২৬)

অন্য আয়াতে মুমিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, তারা আল্লাহ, তার ফেরেশতাগণ, তার কিতাবসমূহ ও তার রাসুলগণের প্রতি ইমান আনে এবং বলে, ‘আমরা তার রাসুলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। (সুরা বাকারা, ২৮৫)

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো একজন রাসুলকে বিশ্বাস করা এবং অন্য কোনো রাসুলকে অস্বীকার করা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সব নবী-রাসুলই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। তাদের একজনকে অস্বীকার করা মূলত আল্লাহর প্রেরিত রাসুলের প্রতি অবিশ্বাসেরই প্রকাশ।

রাসুলগণের প্রতি ইমানের এই ধারণা মুসলমানের বিশ্বাসকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়। একজন মুসলমান শুধু হজরত মুহাম্মাদের (সা.) প্রতি বিশ্বাস রাখবে এমন নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সব নবী-রাসুলের সত্যতা স্বীকার করবে।

হাদিসেও ইমানের এই পূর্ণাঙ্গ রূপটি স্পষ্টভাবে এসেছে। হজরত ওমরের (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইমানের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল, পরকাল এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাসের কথা বলেছেন।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন আমরা আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে বসেছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এলেন। ধবধবে সাদা তার পোশাক। চুল তার কুচকুচে কালো। তার মধ্যে সফর করে আসার কোন চিহ্ন ছিল না। আমাদের কেউ তাকে চিনতেও পারলো না।

তিনি এসে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামনে বসে পড়লেন। তারপর বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলুন, অর্থাৎ ইসলাম কি?

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ইসলাম হচ্ছে- আপনি সাক্ষ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসুল, নামাজ আদায় করবে, জাকাত আদায় করবে, রমজান মাসের রোজা পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হজ করবে যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে।

আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।

আমরা বিস্মিত হলাম যে, তিনিই তো নবীজিকে (সা.) প্রশ্ন করলেন জানতে চাওয়ার জন্য আবার তিনিই বিজ্ঞের মতো বলে দিচ্ছেন, আপনি ঠিকই বলেছেন!

এরপর তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, আমাকে ইমান সম্পর্কে কিছু বলুন।

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন, ইমান হচ্ছে আল্লাহ তাআলা, তার ফেরেশতাগণ, তার কিতাবসমূহ, তার রাসুলগণ এবং পরকালকে সত্য বলে বিশ্বাস করা। এ ছাড়া তাকদির অর্থাৎ জীবন ও জগতে কল্যাণ-অকল্যাণ যা কিছু ঘটছে, সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হচ্ছে- এ কথা বিশ্বাস করা।

উত্তর শুনে আগন্তুক আবার বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।

তারপর তিনি প্রশ্ন করলেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ইহসান হচ্ছে আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাকে দেখছেন। আর আপনি যদি তাকে নাও দেখেন, তিনি আপনাকে অবশ্যই দেখছেন।

আগন্তুক এবার প্রশ্ন করলেন, আমাকে কেয়ামত সম্পর্কে বলুন।

উত্তরে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চাইতে বেশি কিছু জানেন না।

আগন্তুক বললেন, তাহলে কেয়ামতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বলুন।

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেয়ামতের নিদর্শন হলো, দাসী তার নিজের মনিবকে প্রসব করবে, আপনি দেখতে পাবেন নগ্নপদ বিবস্ত্র হতদরিদ্র মেষ চালকরা বড় বড় দালান-কোঠা নিয়ে অহংকার করবে।

তারপর আগন্তুক চলে গেলে আমি কিছুক্ষণ সেখানেই অবস্থান করলাম। পরে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, ওমার! প্রশ্নকারী আগন্তুককে চিনতে পেরেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, ইনি হচ্ছেন জিবরাইল (আঃ), তিনি আপনাদেরকে আপনাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। (সহিহ মুসলিম: ৮)

এ হাদিস থেকেও স্পষ্ট হয় যে, রাসুলগণের প্রতি ইমান ইমানের সামগ্রিক কাঠামোর মৌলিক অংশ। আল্লাহর শেষ রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মাদসহ (সা.) অন্যান্য রাসুলগণের প্রতি ইমান আনা ছাড়া ইমান পূর্ণ হয় না।

ওএফএফ

Original Source
https://www.jagonews24.com/religion/islam/1156386
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World