তিন বছরেও শেষ হয়নি হলের নির্মাণকাজ, আবাসন সংকটে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এখনো ভবন দুটির কাজ শেষ হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসন সুবিধা রয়েছে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর। ফলে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে ভুগছেন।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট লাঘবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি ১০ তলা হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি ভবন দুটির নির্মাণকাজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ভবনের নির্মাণকাজে হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে এরই মধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে ভবন দুটির নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ভবন দুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ চলায় শ্রমিক সংকটসহ নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এতে দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়েও নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
নির্মাণকাজের এমন দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল মিয়া বলেন, ভবনের অধিকাংশ কাজ শেষ। আমরা এখন ফিনিশিংয়ের কাজ করছি। আশা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো।
এর আগে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন এবং ফাইল আটকে থাকার কারণে নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান।
এ বিষয়ে সিএসআই কনস্ট্রাকশনের প্রশাসক রুমেল ও রিপোর্টিং পরিচালক শাহআলম বাদশার সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রকল্পের কাজের বারবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। এরপর অনুমতি পেলে দেওয়া যাবে।
তবে চলমান বর্ধিত সময়সীমা ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে তাদের আইনি শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম।
এনএইচআর/এএসএম



