নব্বইয়ের দশকের সাজে কারিনা
উৎসবের সাজ মানেই কি গাঢ় রং, ভারী কাজ আর ঝলমলে গয়না? কারিনা কাপুর খান যেন সেই চেনা ধারণাতেই একটু পরিবর্তন আনলেন। মুম্বাইয়ে ‘দায়রা’ সিনেমার মিউজিক লঞ্চে চেনা ড্রেস কিংবা শার্প টেইলারিংয়ের পথে না হেঁটে অভিনেত্রী বেছে নিলেন ছয় গজের মায়াবী লেহেরিয়া। আর সেই শাড়ির প্যাস্টেল রঙের খেলায় এক ঝলকেই যেন চোখ আটকে গেল।

কারিনার পরনে ছিল ‘দ্য প্যালেস অ্যাটেলিয়ার’-এর সমন্দর লেহেরিয়া শাড়ি। উজ্জ্বল হলুদ, ফিরোজা, সমুদ্র-ফেনা সবুজ এবং হালকা গোলাপি রঙের স্নিগ্ধ আভায় প্রাণবন্ত এই রঙগুলোর মেলবন্ধন শাড়িটিকে করে তুলেছে একেবারেই অন্যরকম।

রঙের বাহার আছে, কিন্তু নেই কোনো বাড়তি চাকচিক্য। হালকা শিফনের কাপড় শরীরের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে গিয়ে তৈরি করেছে বাতাসে ভেসে থাকা এক অনুভূতি।শাড়ির ড্রেপিংয়েও ছিল কারিনার সেই চেনা ‘লেস ইজ মোর’ স্টাইল।

অতিরিক্ত প্লিট কিংবা জটিল কায়দায় না গিয়ে সহজভাবেই শাড়ি পরেছেন তিনি। ফলে লেহেরিয়ার ঢেউ খেলানো নকশা আর প্যাস্টেল রঙই হয়ে উঠেছে পুরো লুকের আসল নায়ক।

এমন রঙিন শাড়ির সঙ্গে গয়না বাছাইয়ে সামান্য ভুল হলেই পুরো সাজ ভারী হয়ে যেতে পারত। কারিনা অবশ্য সেই ঝুঁকিই নেননি। গলায় ছিল সূক্ষ্ম ডিটেইলের ডাবল-লেয়ারড ডায়মন্ড চোকার। সঙ্গে ছোট স্টাড কানের দুল।

গয়নায় ঝলক ছিল, কিন্তু তা শাড়ির রঙের সঙ্গে পাল্লা দেয়নি। বরং পুরো সাজে যোগ করেছে নরম এক রাজকীয়তা। মেকআপেও ছিল একই ছন্দ। ত্বকে গ্লোয়িং বেস, চোখে হালকা ডেফিনিশন, গালে মৃদু ব্লাশ আর ঠোঁটে নিউট্রাল-ন্যুড পিঙ্ক-সব মিলিয়ে সাজটি ছিল স্বাভাবিক অথচ গ্ল্যামারাস। খোলা চুলে নরম ওয়েভ বা ব্লো-ড্রাই করা চুল লুকটিকে দিয়েছে সতেজতা।

এই লুক শুধু নতুন ট্রেন্ডের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাপুর পরিবারের পুরোনো ফ্যাশন স্মৃতিও। কারিনা তার সাম্প্রতিক লেহেরিয়া লুকের সঙ্গে বোন কারিশমা কাপুরের ‘জুবেইদা’ সিনেমার একটি পুরোনো সাজের ছবি মিলিয়ে দেখিয়েছেন।

দুই বোনের লুক পাশাপাশি আসতেই যেন সময়ের ব্যবধানটা মুহূর্তেই মুছে গেল। ফ্যাশন যে শুধু ট্রেন্ডের নাম নয়, কখনো কখনো পরিবারের স্মৃতিও হয়ে উঠতে পারে-কারিনার এই পোস্ট যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল।

লেহেরিয়া রাজস্থানের বহু পুরোনো টাই-ডাই বা রেজিস্ট-ডাইং কৌশল। কাপড় বিশেষভাবে বাঁধার পর রং করার ফলে তৈরি হয় ঢেউয়ের মতো তির্যক রেখা। ‘লেহর’ বা ‘লহর’ শব্দের অর্থই ঢেউ। জয়পুর ও যোধপুরসহ রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

কারিনার শাড়িতে সেই ঐতিহ্যই যেন নতুন প্রজন্মের জন্য নতুনভাবে হাজির হয়েছে। একদিকে রাজস্থানি লেহেরিয়ার পরিচিত ঢেউ খেলানো নকশা, অন্যদিকে প্যাস্টেল রঙের আধুনিক প্যালেট ও মিনিমাল স্টাইলিংয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে তার লুকের বিশেষত্ব।

কারিনার এই সাজের সবচেয়ে বড় বার্তা একটাই-উৎসবের ফ্যাশনে নজর কাড়তে সবসময় ভারী সাজের প্রয়োজন নেই। নরম প্যাস্টেল রং, হালকা শিফন, সংযত গয়না আর স্বাভাবিক মেকআপ দিয়েও তৈরি হতে পারে এমন একটি লুক, যা একসঙ্গে আধুনিক, এলিগ্যান্ট আর রাজকীয়। আর কারিনা কাপুর খান সেটিই যেন প্রমাণ করলেন তার ছয় গজের এই রঙিন মায়ায়।
এসএকেওয়াই


