চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা, রিমান্ড শেষে ৩ আসামি কারাগারে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে অটোরিকশা গ্যারেজে ঢুকে ব্যবসায়ী সাগর খান ওরফে ইমরানকে (৩৮) গুলি করে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনদিনের রিমান্ড শেষে তাদের হাজির করে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ (৩১), মো. কামরুল হাসান (২৫) ও মো. সাইফ হোসেন (২০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত প্রত্যেকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে নিহত ইমরানের সঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও কামরুল হাসানের বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়াজ ও কামরুলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে ইমরানের গ্যারেজে যায়। তাদের মাথায় হেলমেট ছিল এবং সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গ্যারেজে ঢুকেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়তে থাকে। একপর্যায়ে রিয়াজ পেছন থেকে ইমরানের মাথায় গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় ইমরানের বন্ধু সাদ্দাম বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে সাদ্দাম সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে রিয়াজ তার বাম পায়ে গুলি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা ইমরান ও সাদ্দামকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহত ইমরানের স্ত্রী গত ৭ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
এমডিএএ/জেএইচ


