কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের হিড়িক

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
মার্কিন পণ্য বর্জন করে কানাডীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ছে কানাডায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে জানানোর পাশাপাশি নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। কানাডীয় পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝো...

মার্কিন পণ্য বর্জন করে কানাডীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ছে কানাডায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে জানানোর পাশাপাশি নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কানাডীয় পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক

অন্টারিওর স্বাধীন মুদি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি জানান, মার্কিন পণ্য বিক্রি নিয়ে সম্প্রতি অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গ্রেটার টরন্টো এলাকায় তাদের চারটি দোকানে বিক্রি হওয়া সবজির প্রায় ৯০ শতাংশই কানাডায় উৎপাদিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে এখন কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করছেন তারা। একই সঙ্গে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজেটও কমাতে হয়েছে।

ত্রিমার্কির ভাষায়, আগে ক্রেতাদের কাছে মূল বিষয় ছিল পণ্যের মান ও দাম। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—পণ্যটি কোন দেশের।

পণ্যের উৎস স্পষ্ট করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো

কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লব্লও আগস্টে তাদের ফল ও তাজা খাবারের বিভাগে বড় আকারের কানাডীয় পতাকার চিহ্ন আবারও ব্যবহার শুরু করেছে। শুল্কের কারণে প্রভাবিত পণ্য চিহ্নিত করতে তারা ‘টি’ ট্যাগও ফিরিয়ে এনেছে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই কানাডীয় পণ্য শনাক্ত করতে পারছেন।

দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মুদি বিক্রেতা মেট্রোও জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কানাডীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখবে।

কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রোসার্সের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি স্যান্ডস মনে করেন, পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দেশের উৎস নিয়ে কানাডীয়দের মানসিকতায় স্থায়ী পরিবর্তন আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় সরবরাহকারী

তবে কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের গুরুত্ব এখনো অনেক বেশি। দেশটি মূল্যমানের হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তাজা সবজি আমদানিকারক। আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এখনো আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কানাডার সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে, এই হার ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ।

ফল আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। জুলাই পর্যন্ত কানাডার অর্ধেকের বেশি ফল আমদানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েনও এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত ২১ আগস্ট দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়।

এর ফলে কানাডীয় ক্রেতাদের একটি অংশ মার্কিন পণ্য এড়িয়ে স্থানীয় বা অন্য দেশের পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন।

টরন্টোর ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ডও তাদের একজন। তিনি জানান, সম্ভব হলে তিনি মার্কিন পণ্য না কিনে কানাডীয় ব্র্যান্ড ও ব্যবসাকে সমর্থন করেন। পণ্য কেনার আগে তিনি লেবেল দেখেন এবং প্রয়োজন হলে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন।

বদলে যেতে পারে সরবরাহ ব্যবস্থা

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেতাদের এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে কানাডার খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয় উৎপাদকরা এতে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেলেও ব্যবসায়ীদের জন্য মান, দাম এবং পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফলে মার্কিন পণ্য বর্জনের এই প্রবণতা শুধু ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং কানাডার সুপারমার্কেটগুলোর পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনছে।

সূত্র: রয়র্টাস

এমএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1156498
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World