বিনা টিকিটে ভ্রমণের অনুশোচনা, রেলকে ২৫ হাজার টাকা দিলেন শিক্ষিকা
বিভিন্ন সময় বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করার পর বিষয়টি উপলব্ধি করে অতীতের ভাড়া বাবদ রেল কর্তৃপক্ষকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছেন পাবনার ভেড়ামারা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের টিকিট বুকিং কাউন্টারে গিয়ে তিনি এ টাকা জমা দেন।
এ সময় রাজশাহীর রেলওয়ে ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (টিকিট চেকিং) এ কে এম নুরুল আলম, ঈশ্বরদী রেলওয়ের সিনিয়র টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শহিদুল ইসলামসহ রেলের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ের সিনিয়র টিটিই আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু জানান, ওই নারী শিক্ষক চাকরির প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ভেড়ামারাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। পরে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ করা উচিত হয়নি—এমন উপলব্ধি থেকে তিনি অতীতের ভাড়া পরিশোধের উদ্যোগ নেন।
একপর্যায়ে তিনি তার পরিচিত রাজশাহীর রেলওয়ে ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (টিকিট চেকিং) এ কে এম নুরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের টিকিট বুকিং কাউন্টারে গিয়ে প্রধান বুকিং সহকারী শহিদুল ইসলামের কাছে ২৫ হাজার টাকা জমা দেন।
টিটিই আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু আরও বলেন, এর আগে আরও কয়েকজন ট্রেনযাত্রী অতীতের ভাড়া এককালীন পরিশোধ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষিকা নিজের ভুল উপলব্ধি করে স্বেচ্ছায় টাকা জমা দিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।
রাজশাহীর রেলওয়ে ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (টিকিট চেকিং) এ কে এম নুরুল আলম বলেন, চাকরিজীবনে ওই শিক্ষিকা নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। বিভিন্ন সময় ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তিনি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। চাকরিজীবন শেষে তিনি উপলব্ধি করেন, রেলের ভাড়া যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ওই শিক্ষিকা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে অতীতের ট্রেনভাড়া পরিশোধ করা যায়, তা জানতে চান। পরে এককালীন একটি ভাড়া নির্ধারণ করে তা পরিশোধের পরামর্শ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তিনি ঈশ্বরদী রেলওয়ে বুকিং অফিসে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া হিসেবে জমা দিয়েছেন। এজন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
শেখ মহসীন/কেএইচকে


