জ্ঞানচর্চা প্রসারে ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে: ধর্মমন্ত্রী
সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
তিনি বলেন, সব বয়সী মানুষ যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণে গড়ে ওঠে এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও ইসলামের প্রকৃত বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ মেলা সহায়ক হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে ‘মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ এ মেলার আয়োজন করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অতীতের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পবিত্র কোরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোরআন-হাদিসের বই প্রকাশের কাজ কখনো বন্ধ হবে না।
দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে এসব খাত ধ্বংস করা হয়েছে। এগুলো পুনর্গঠনে বর্তমান সরকারকে সময় দিতে হবে।
হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জনের অব্যয়িত মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এটি একটি নতুন নজির। এ বছর হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশ গঠনে ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন ধর্মমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে তার অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম কামরুজ্জামান ইসলামী জ্ঞানচর্চাকে গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার আহ্বান জানান। ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি রোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের উপযোগী নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক বই প্রকাশে লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ইসলামী বইমেলায় দেশি-বিদেশি মোট ২০৬টি স্টল রয়েছে। মেলা চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এমইউ/এমএএইচ/


