লাল বলের ক্রিকেটই আমার শেষ আশ্রয়: আফ্রিদি

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটেও নিয়মিত দেখা যায়নি তাকে। এ কারণে শাহিন শাহ আফ্রিদির টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ নিয়েও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। তবে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানের তারকা বাঁ-হাতি পেসার জানিয়ে দিলেন, লাল বলের ক্রিকেটই এখন...

পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটেও নিয়মিত দেখা যায়নি তাকে। এ কারণে শাহিন শাহ আফ্রিদির টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ নিয়েও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। তবে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানের তারকা বাঁ-হাতি পেসার জানিয়ে দিলেন, লাল বলের ক্রিকেটই এখনো তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে খেলতে নামছেন শাহিন। আর এই ম্যাচ দিয়েই দীর্ঘ সাত বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার এই সুযোগটিকে টেস্ট দলে ফেরার পথ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখছেন আফ্রিদি।

শাহিন বলেন, ‘লাল বলের ক্রিকেট সবসময়ই আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আমি সবসময়ই এটা ভালোবেসেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততার কারণে যথেষ্ট সময় খেলতে পারিনি। গত কয়েক মাসেও খুব বেশি ক্রিকেট খেলা হয়নি। তাই এখন লাল বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।’

২০১৭ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে কেআরএলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল শাহিনের। অভিষেকেই ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়ে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর দ্রুতই পাকিস্তান দলে জায়গা করে নিয়ে তিন সংস্করণেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার হয়ে ওঠেন।

তবে সময়ের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে তার অবস্থান বদলেছে। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে জায়গা পাননি শাহিন। পাকিস্তানের টেস্ট বোলিং আক্রমণেও সাম্প্রতিক সময়ে গতির ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। তবু দল বেছে নিয়েছে তুলনামূলক মাঝারি গতির বোলারদের।

একসময় পাকিস্তানের টেস্ট দলের নতুন বলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন শাহিন। কিন্তু ২০২২ সালে হাঁটুর চোটের পর তার বোলিংয়ের ধার ও গতি কিছুটা কমে যায়। চোটের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়েও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা হয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বশেষ ২৭ উইকেট নিতে গিয়ে তার বোলিং গড় ৪০-এর ওপরে, যা তার আগের কার্যকারিতার তুলনায় বড় পতনেরই ইঙ্গিত দেয়।

এই পরিস্থিতি বদলে আবার টেস্ট দলে ফিরতে চান শাহিন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে গতিময় ও বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে। সেই জায়গা থেকেই নিজের বোলিংকে আরও ধারালো করতে ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেটকে কাজে লাগাতে চান তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকাকে বোলারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন শাহিন। এ ক্ষেত্রে বড় ভাই রিয়াজ আফ্রিদির কাছ থেকেও পাওয়া শিক্ষার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শাহিন বলেন, ‘আমার বড় ভাই রিয়াজ আফ্রিদির কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সে অনেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছে। দীর্ঘ সংস্করণে যত বেশি সময় মাঠে থাকা যায়, আত্মবিশ্বাসের জন্য সেটা তত ভালো। একই সঙ্গে আপনার লাইন ও লেংথও আরও নিখুঁত হয়।’

প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে নিজের বোলিংয়ের ধরনেও কোনো পরিবর্তন আনতে চান না শাহিন। টেস্ট ক্রিকেটে যেভাবে বোলিং করেছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটেও একইভাবে বোলিং করার পরিকল্পনা তার।

‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও আমি টেস্ট ক্রিকেটে যেভাবে বোলিং করেছি, সেভাবেই করার চেষ্টা করব। গত কয়েক মাস লাল বলের ক্রিকেট খেলিনি। তার আগে অবশ্য নিয়মিতই খেলেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে আসাটা কঠিন হতে পারে। কারণ তিন সংস্করণে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললে ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হয়। কিন্তু যখন সময় পাবেন, তখন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা উচিত।’

টেস্ট দলে ফেরার লড়াইয়ে অবশ্য শাহিনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়নস কাপে ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। পাকিস্তান গোল্ডকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপাও জিতিয়েছেন তিনি। ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করে ৩৬ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট।

ওয়ানডেতে নিজের জায়গা আরও শক্ত করার পাশাপাশি সামনে পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবেও বড় দায়িত্ব রয়েছে শাহিনের কাঁধে। ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

এরপরই পাকিস্তানের সামনে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ- শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই সিরিজ দুটিকে সামনে রেখে টেস্ট দলে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে চাইছেন শাহিন। আর তার প্রথম ধাপ হিসেবে প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে লাল বল হাতে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করাই এখন তার লক্ষ্য।

সাত বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচটি তাই শাহিনের জন্য শুধুই আরেকটি ঘরোয়া ম্যাচ নয়। বরং হারিয়ে যাওয়া টেস্ট মর্যাদা ও আগের ধার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের শুরু হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই ম্যাচকে।

আইএইচএস/

Original Source
https://www.jagonews24.com/sports/cricket/1156513
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World