‘৮০-র দশকের’ সূর্যবংশীকে চিনতেই পারলেন না ভারতীয় তারকারা!

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নস্টালজিয়ার জোয়ার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ছবি পরিবর্তন করে ১৯৮০-এর দশকের আবহে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষকে। পুরোনো দিনের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল, পোশাক আর ছবি তোলার ধরন- সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এমন সব ছবি, যা দেখলে মনে হয় কয়েক দশক আগের পারিবারিক অ্...

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নস্টালজিয়ার জোয়ার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ছবি পরিবর্তন করে ১৯৮০-এর দশকের আবহে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষকে। পুরোনো দিনের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল, পোশাক আর ছবি তোলার ধরন- সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এমন সব ছবি, যা দেখলে মনে হয় কয়েক দশক আগের পারিবারিক অ্যালবাম কিংবা বলিউডের পুরোনো স্টুডিও থেকে উঠে এসেছে।

এবার সেই ট্রেন্ডে মেতেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলও। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দলের খেলোয়াড়দের এআই দিয়ে তৈরি ‘৮০-এর দশকের’ ছবি প্রকাশ করেছে। শুধু ছবি প্রকাশ করেই থামেনি বোর্ড, খেলোয়াড়দের সামনে সেই ছবিগুলো দেখিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়াও ধারণ করেছে।

সেখানেই ঘটেছে মজার ঘটনা। নিজেদের সতীর্থদের এআই-রূপ চিনতে পারলেও ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর ছবির সামনে গিয়ে রীতিমতো বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন ভারতের তারকারা। ছবিটি যে সূর্যবংশীর, সেটাই বুঝতে পারেননি তারা।

এআইয়ের তৈরি ছবিতে ক্রিকেটারদের চেহারা ও সাজসজ্জায় এমনভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছিল যে বর্তমান সময়ের পরিচিত মুখগুলোকেও কয়েক দশক আগের তারুণ্যের রূপে মনে হচ্ছিল। সেই তালিকায় সূর্যবংশীর ছবিটিই সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলেছে সতীর্থদের।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন তৈরি করা সূর্যবংশী এখন দলের অন্যতম আলোচিত তরুণ মুখ। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং নির্ভীক ক্রিকেটের কারণে তাকে ‘বয় ওয়ান্ডার’ বলেও ডাকা হচ্ছে। কিন্তু এআইয়ের জাদুতে সেই পরিচিত মুখটিই এতটাই বদলে গিয়েছিল যে ভারতীয় ক্রিকেটারদের কাছেও তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে মাঠের ক্রিকেটে অবশ্য সূর্যবংশীকে নিয়ে ভারতের সামনে রয়েছে আরও বড় এক সিদ্ধান্ত। রোববার থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচের একাদশে সূর্যবংশীকে রাখা হবে, নাকি অভিজ্ঞ সাঞ্জু স্যামসনকে ফিরিয়ে আনা হবে- এ প্রশ্নই এখন ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে।

ইংল্যান্ড সফরে সূর্যবংশীকে একাদশে জায়গা দিতে স্যামসনকে বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে আবার অভিজ্ঞ স্যামসনের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয় ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারকে।

ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাদশ নির্বাচনটা ভারতের জন্য মোটেও সহজ হবে না। একদিকে সূর্যবংশীর আগ্রাসী ব্যাটিং, অন্যদিকে স্যামসনের অভিজ্ঞতা ও স্বাভাবিক বিস্ফোরক ব্যাটিং- দুই বিকল্পেরই রয়েছে আলাদা সুবিধা।

স্যামসন ও অভিষেক শর্মার জুটি টি-টোয়েন্টিতে তুলনামূলকভাবে বেশি পরীক্ষিত এবং স্থিতিশীল। অন্যদিকে সূর্যবংশীকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, সেটিও এখন উপেক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ- দুই ক্রিকেটারকেই পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে এশিয়ান গেমসের জন্য চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করা।

শুক্রবার সন্ধ্যার নেট সেশনে অবশ্য স্যামসনকে কিছুটা বেশি নিয়ন্ত্রিত মনে হয়েছে। বিপরীতে সূর্যবংশীকে সামলাতে হয়েছে ভারতের তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর কঠিন পরীক্ষা। বুমরাহ তাকে দেখিয়েছেন কিভাবে পিচ থেকে ম্যুভমেন্ট পাওয়া দ্রুতগতির বল মোকাবিলা করতে হয়।

তবে এর পেছনে যুক্তিও আছে। টানা তিনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে আসার পর সূর্যবংশীর শরীর ও ব্যাটিংয়ে কিছুটা ক্লান্তির প্রভাব থাকতেই পারে। লাল বলের ক্রিকেটের পর হঠাৎ টি-টোয়েন্টির গতিতে মানিয়ে নিতে তার কিছুটা সময় লাগাও স্বাভাবিক।

তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরিস্থিতি হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আফগান বোলিং আক্রমণে বুমরাহর মতো বিশ্বমানের গতিময় ও সুইং করা বোলার নেই। তাদের বোলিংয়ের গতি ও ধরন বরং সূর্যবংশীর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে যেতে পারে। খুব বেশি পা না নড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বল মারার যে নিজস্ব ধরন সূর্যবংশী তৈরি করেছেন, আফগানদের বিপক্ষে সেটিই হয়ে উঠতে পারে ভারতের বড় অস্ত্র।

অন্যদিকে স্যামসনকে ইংল্যান্ড সিরিজে মাত্র তিনটি ব্যর্থতার পর বাদ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। উচ্চঝুঁকির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কয়েকটি ইনিংসে ব্যর্থতার পর একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সরিয়ে দেওয়া অনেকের কাছেই কঠিন সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল।

কিন্তু সূর্যবংশীকে ঘিরে জনসমর্থন ও প্রত্যাশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শেষ পর্যন্ত দলীয় ব্যবস্থাপনাকেও সেই আবেগের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়েছে। যদিও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট বরাবরই দাবি করে আসছে, বাইরের চাপ বা জনপ্রিয় মতামত তাদের একাদশ নির্বাচনে প্রভাব ফেলে না।

তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এমন একটি সমাধানও তৈরি হতে পারে, যেখানে সূর্যবংশী ও স্যামসন দুজনকেই একাদশে দেখা যাবে। নেটে শুক্রবার পিঠে চোটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইশান কিষানের। শেষ পর্যন্ত তিনি খেলতে না পারলে দুই ব্যাটারের একসঙ্গে মাঠে নামার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

আইএইচএস/

Original Source
https://www.jagonews24.com/sports/cricket/1156530
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Economy