পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেও বাংলাদেশের ওপরে উঠতে পারলো না ইংল্যান্ড

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা ছিল একপেশে। প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে এসে জয়ের জন্য মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য পেয়েও শুরুতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিপদ কাটিয়ে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হো...

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা ছিল একপেশে। প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে এসে জয়ের জন্য মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য পেয়েও শুরুতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিপদ কাটিয়ে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড।

শনিবার বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনেই ম্যাচ শেষ করে ইংল্যান্ড। এই জয়ে সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট টেবিলেও নিজেদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে ইংল্যান্ডের। তবে জয়ের শতাংশ কিছুটা বেড়েছে। অনেকেই ভেবেছিল এই হোয়াইটওয়াশের ফলে ইংল্যান্ডের অবস্থান হয়তো অনেক এগিয়ে যাবে; কিন্তু তারা এগুতে পারেনি, বাংলাদেশের পেছনেই রয়েছে তারা।

তৃতীয় টেস্টের আগে নয় দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন্সশিপের পয়েন্ট টেবিলে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তান ছিল সবার নিচে, নবম স্থানে। এজবাস্টনের জয় ইংল্যান্ডকে টেবিলের অবস্থান বদলাতে না পারলেও তাদের জয় শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩-০ সিরিজ জয়ের পর ইংল্যান্ডের জয় শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৮.৫৪।

অন্যদিকে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এজবাস্টনে হারের পর তাদের জয় শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪.৮১-এ। ফলে নয় দলের টেবিলে শেষ অবস্থানেই রয়েছে পাকিস্তান।

৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ৫ম স্থানে রয়েছে ভারত। ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ৭২.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় নিউজিল্যান্ড, দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্টের শতাংশ ৭৫.০০। শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টের শতাংশ ৮০.০০।

তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩০ রান; কিন্তু সহজ সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ফিরে যান দুই ওপেনার বেন ডাকেট ও এমিলিও গে। ফলে কোনো রান না করেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর ক্রিজে এসে প্রথম বলেই স্লিপ দিয়ে চার মেরে শুরু করেন জো রুট। রজাউল্লাহর বলে পাওয়া সেই বাউন্ডারির পর অবশ্য কিছুটা সময় নিয়েই পরিস্থিতি সামলে নেন ইংল্যান্ডের রেকর্ড রান সংগ্রাহক।

রুট এরপর দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। মাঝপথে অবশ্য দুবার জীবন পান তিনি। মোহাম্মদ আলীর বলে বল স্টাম্পে লাগলেও আম্পায়ার নো-বল ডাকায় বেঁচে যান রুট। এরপর আব্বাসের বলে স্লিপে ক্যাচের সুযোগ তৈরি হলেও প্রথম ও দ্বিতীয় স্লিপের ফিল্ডার কেউই বলের দিকে এগিয়ে আসেননি।

সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন রুট ও জর্ডান কক্স। ৫৭ বলে চার মেরে অর্ধশতক পূর্ণ করেন রুট। কিছুক্ষণ পর কক্সও ফিফটি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ২৫তম ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। রুট অপরাজিত থাকেন ৬২ রানে। কক্সের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৫৯ রান।

তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় লড়াইটা অবশ্য এসেছিল এক অপ্রত্যাশিত ব্যাটারের কাছ থেকে। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে খুব ছোট লক্ষ্য দাঁড় করানোর পর শুক্রবারই মনে হচ্ছিল ম্যাচটি তিন দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পাকিস্তানের অভিষিক্ত পেসার রজাউল্লাহ ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে দেন।

নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রান করেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। তার ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা। ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি পাকিস্তানকে বড় লিডের দিকে এগিয়ে দেন।

নবম উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে ১২১ রানের জুটি গড়েন রজাউল্লাহ। আব্বাস করেন ৪২ রান। এর আগে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে বল হাতেও চার উইকেট নিয়েছিলেন রজাউল্লাহ। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্য কিছুটা হলেও পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখিয়েছিল। কিন্তু তার লড়াই শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানের বিপর্যয় শুরু হয়েছিল প্রথম টেস্ট থেকেই। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যবধান আরও বড়- ১৯৪ রান।

লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে বড় হারের পর পাকিস্তান দলে শুরু হয় ব্যাপক পরিবর্তন। সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং তাদের জায়গায় দলে নেওয়া হয় আরও সাতজনকে। তাদের মধ্যে ছিলেন রজাউল্লাহও।

শুধু খেলোয়াড় পরিবর্তনেই থামেনি পাকিস্তানের অস্থিরতা। সিরিজের মাঝপথে প্রধান কোচ সারফরাজ আহমেদ ও সহকারী/বোলিং কোচ উমর গুলকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় নতুন কোচিং স্টাফকে।

তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তান একাদশেও আসে চার পরিবর্তন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্যই দিতে পারে সফরকারীরা।

ইংল্যান্ডের জন্য এই ৩-০ সিরিজ জয় এসেছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। কয়েক সপ্তাহ আগেও দলটির ভেতরে ছিল অস্থিরতা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের বিদায় ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন দাপুটে সিরিজ জয় ইংল্যান্ডকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেবে।

তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। এরপর আগামী বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ- যেখানে এই দলের সামর্থ্যের আরও বড় পরীক্ষা হবে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল

অবস্থান দল ম্যাচ জয় হার টাই ড্র পয়েন্ট জয় শতাংশ
অস্ট্রেলিয়া ১০ ৯৬ ৮০.০০%
দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬ ৭৫.০০%
নিউজিল্যান্ড ৫২ ৭২.২২%
বাংলাদেশ ৪০ ৫৫.৫৬%
ভারত ১১ ৬৮ ৫১.৫২%
ইংল্যান্ড ১৬ ৭৪ ৩৮.৫৪%
শ্রীলঙ্কা ২৪ ৩৩.৩৩%
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২ ৩০ ২০.৮৩%
পাকিস্তান ১৬ ১৪.৮১%

আইএইচএস/

Original Source
https://www.jagonews24.com/sports/cricket/1156521
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World