বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে: ধর্মমন্ত্রী
বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
তিনি বলেন, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সময় দিতে হবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিলে বর্তমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একটা বাচ্চা যখন জন্মগ্রহণ করে, তারপরই যদি তাকে ‘আব্বা’ ডাকতে বলা হয়—কোনোদিন তা সম্ভব হবে? বাচ্চাকে সময় দিতে হবে, বড় করতে হবে। যখন বাচ্চা বড় হবে তখন সে অটোমেটিক আব্বা ডাকবে। ঠিক তেমনি বর্তমান সরকারকেও পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
ধর্মমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিলে ইনশা আল্লাহ বর্তমান অবস্থা থাকবে না। মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথে কাজ করে যাওয়া এবং সরকারকে সময় ও সহযোগিতা দিলে দেশের সব সংকটের সমাধান সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে মাসব্যাপী এই ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর মহান জীবন-আদর্শ এবং ইসলামের শান্তি ও কল্যাণময় বার্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৮ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও আওয়ামী লীগীকরণ করা হয়েছিল। অতীতের মুজিববাদী প্রভাব থেকে মুক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র কোরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সর্বপ্রকার অন্যায় ও অবিচার চিরতরে দূর করতে হবে। কোনো হালাল কাজের জন্য যেন কাউকেই এক পয়সাও দিতে না হয়, সেভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অব্যয়িত মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে বর্তমান সরকার এক নতুন নজীর স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ বছর হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ২০২৩ সালেও ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর অন্য কোনো সরকার উদ্যোগ না নিলেও তিনি দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি জানান, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনতে এরই মধ্যেই ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান সরকার ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি সারাদেশে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এমইউ/এমআইএইচএস
