ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা
স্মার্টফোনের পাশাপাশি ক্যামেরা দিয়েও এখন দারুণ মানের ভিডিও তৈরি করছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভ্লগিং করে অনেকেই তৈরি করছেন নিজের পরিচিতি। ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।
তবে ভালো ভিডিওর জন্য ক্যামেরা বাছাই করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভ্লগিংয়ের ক্ষেত্রে ক্যামেরার আকার, ভিডিওর মান, স্ট্যাবিলাইজেশন এবং অডিও সবই দেখতে হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি ক্যামেরা সম্পর্কে, যেগুলো ভ্লগিংয়ের জন্য কাজে লাগতে পারে।
১. ইন্সটা৩৬০ এস প্রো ২
হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে ভ্লগ করতে চাইলে ইন্সটা৩৬০ এস প্রো ২ হতে পারে ভালো একটি বিকল্প। এটি তুলনামূলক কমপ্যাক্ট এবং ক্রিয়েটরদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি। এতে রয়েছে ২.৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে। অ্যাক্টিভ এইচডিআর এবং পিওেভিডিও মোড বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভালো মানের ভিডিও ধারণে সাহায্য করে। উন্নত মাইক্রোফোন ও উইন্ড গার্ড থাকায় বাইরের পরিবেশেও অডিও রেকর্ডিংয়ে সুবিধা পাওয়া যায়।
২. গোপ্রো হিরো০১৩ ব্ল্যাক
অ্যাডভেঞ্চার বা বাইরে ঘুরে ঘুরে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে গোপ্রো হিরো০১৩ ব্ল্যাক নজরে রাখতে পারেন। সামনে ও পেছনে ডিসপ্লে থাকায় শুটিংয়ের সময় ফ্রেম দেখা সহজ। ক্যামেরাটি ৫.৩কে ভিডিও এবং ২৭এমপি ছবি তুলতে পারে। হাইপারস্মুথ ৬.০ স্ট্যাবিলাইজেশন চলন্ত অবস্থায় তুলনামূলক স্থির ফুটেজ পেতে সাহায্য করে। এইচএলজি এইচডিআর-এর পাশাপাশি ব্লুটুথ অডিও সাপোর্টও রয়েছে।
৩. সনি জেডভি-১
ভ্লগিংকে গুরুত্ব দিয়েই তৈরি সনি জেডভি-১। এতে রয়েছে ৩ ইঞ্চির সাইড-ফ্লিপ এলসিডি স্ক্রিন, যা নিজের ভিডিও করার সময় বেশ কাজে আসে। ২০ মেগাপিক্সেলের ১ ইঞ্চি এক্সমর আরএস সেন্সর এবং জাইস ২৪-৭০মিমি এফ/১.৮-২.৮ লেন্স ভালো মানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সাহায্য করে। এতে ৪কে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। উইন্ডস্ক্রিনসহ ডিরেকশনাল ৩-ক্যাপসুল মাইক্রোফোন অডিও রেকর্ডিংয়ের মান বাড়ায়।
৪. ডিজেআই ওসমো পকেট ৪
ছোট আকারের ক্যামেরা পছন্দ হলে ডিজেআই ওসমো পকেট ৪ দেখতে পারেন। এতে রয়েছে ২ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন এবং ১ ইঞ্চির সিএমওএস সেন্সর। এটি ৪কে ভিডিও ও ৩৭ মেগাপিক্সেলের ছবি ধারণ করতে পারে। তিনটি মাইক্রোফোন, ডিজেআই মাইক-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং থ্রি-অ্যাক্সিস মেকানিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন ভ্লগিংকে আরও সহজ করে। দ্রুত অটোফোকাস ও এআই সাবজেক্ট ট্র্যাকিং-ও রয়েছে।
৫. ক্যানন ইওএস আর৫০ ভি
যারা একটু বেশি প্রফেশনাল সেটআপ চান, তাদের জন্য ক্যানন ইওএস আর৫০ ভি একটি বিকল্প হতে পারে। এটি একটি মিররলেস ক্যামেরা, যাতে রয়েছে ২৪.২ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৩ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন। ১৪-৩০ মিমি পাওয়ার জুম লেন্স, ডুয়াল পিক্সেল সিএমওএস এএফ II এবং ডিজিটাল স্থিতিশীলতা ভ্লগিংয়ের সময় সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি থ্রি-ক্যাপসুল মাইক্রোফোনের মাধ্যমে পরিষ্কার অডিও রেকর্ড করা সম্ভব।
ক্যামেরা কেনার আগে অবশ্যই নিজের ভ্লগিংয়ের ধরন, বাজেট, বহন করার সুবিধা এবং অডিও-ভিডিওর প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। দামি ক্যামেরা থাকলেই ভিডিও ভালো হবে এমন নয়; ভালো গল্প, পরিষ্কার উপস্থাপনা এবং নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্টই শেষ পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।
কেএসকে




