ইউএনও অফিসের সামনে লুটের বালু, ছবি-ভিডিও ছড়ানোর পর জব্দের নির্দেশ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ইজারাবিহীন শান্তিপুর নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মজুতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই নদী থেকে উত্তোলন করা বালুর স্তূপ পাওয়া গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনেই।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বালুর স্তূপের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বালুর স্তূপটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক। পরে তিনি বালু জব্দ এবং এর মালিককে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন অর রশিদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইজারাবিহীনভাবে তাহিরপুর উপজেলার শান্তিপুর নদী থেকে প্রভাবশালী একটি চক্র কোটি কোটি টাকার বালু লুট করেছে। বালু উত্তোলন ঠেকাতে মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযান চালালেও কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয় বালু উত্তোলন।
স্থানীয় এমপি কামরুজ্জামান কামরুল সমাবেশে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি নদীতে বাঁশের বেড়া দিলেও তা ঠেকানো যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিপুর নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ছোট ছোট নৌকায় করে বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। পরে দাম-দর করে সেগুলো বিক্রি করা হয়। বালু উত্তোলনের সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া। তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই বালুকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘শুক্রবার প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় উপজেলা পরিষদ এলাকায় বালু রাখার বিষয়টি তার নজরে পড়েনি। বালু জব্দ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এর মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’
লিপসন আহমেদ/এসজেডএইচ/জেআইএম


