পণ্যের আলোচনা করলেই বিজ্ঞাপন আসছে! ফোনের আড়ি পাতা বন্ধ করুন
বন্ধুর সঙ্গে আড্ডায় বসে কোনো ঘড়ি, জুতো কিংবা নতুন ফোন নিয়ে কথা বললেন। কিছুক্ষণ পর ফেসবুক খুলতেই সেই পণ্য বা কাছাকাছি ধরনের কোনো বিজ্ঞাপন! এমন ঘটনা একবার-দুবার নয়, অনেকেরই নিয়মিত মনে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে ফোনের মাইক্রোফোন কি আমাদের কথাবার্তা শুনছে? উত্তরটা সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। কারণ বিজ্ঞাপন আপনার কথা না শুনেও অনেক বেশি নির্ভুলভাবে আপনার আগ্রহ আন্দাজ করতে পারে।
কথার সঙ্গে বিজ্ঞাপন মিলে যায় কেন?
স্মার্টফোনে থাকা বিভিন্ন অ্যাপ আপনার অনলাইন আচরণ থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। আপনি কোন ওয়েবসাইটে ঢুকছেন, কী সার্চ করছেন, কোন পোস্টে থামছেন, কোন ভিডিও দেখছেন, কোনো পণ্যের পেজে ক্লিক করছেন কি না এসব তথ্য আপনার সম্ভাব্য আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
ধরুন, আপনি বন্ধুর সঙ্গে জুতা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি সম্প্রতি অনলাইনে জুতার দাম দেখেছেন। হয়তো কোনো জুতার ভিডিওতে কয়েক সেকেন্ড বেশি সময় কাটিয়েছেন। আবার আপনার বন্ধু একই ধরনের জুতা কিনেছে এবং আপনার সামনে সেটি নিয়ে আলোচনা করেছে। এসব ছোট ছোট তথ্য আলাদাভাবে তুচ্ছ মনে হলেও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার কাছে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় লোকেশন, বয়সের মতো সম্ভাব্য শ্রেণিবিন্যাস, ব্যবহৃত ডিভাইস এবং আপনার অনলাইন কার্যকলাপের নানা সংকেত। ফলে আপনি কোনো পণ্য নিয়ে কথা বলার পর বিজ্ঞাপনটি দেখলে মনে হতে পারে, ফোন কথাটি শুনেই বিজ্ঞাপন পাঠিয়েছে।
তাহলে ফোন কি মাইক্রোফোন দিয়ে আড়ি পাতে?
স্মার্টফোনে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া থাকলে কোনো অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি অ্যাপ সারাক্ষণ আপনার ব্যক্তিগত কথাবার্তা রেকর্ড করে বিজ্ঞাপন বানাচ্ছে। জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীর আচরণ ও বিভিন্ন ডাটা-সিগন্যাল বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞাপন দেখায়।
তবে মাইক্রোফোনের অনুমতি কোন অ্যাপকে দেওয়া হয়েছে, সেটি নজরে রাখা জরুরি। বিশেষ করে এমন অ্যাপের ক্ষেত্রে, যেগুলোর কাজের সঙ্গে মাইক্রোফোন ব্যবহারের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
কীভাবে মাইক্রোফোনের অনুমতি বন্ধ করবেন?
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত সেটিংস > প্রাইভেসি/সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি > পারমিশন ম্যানেজার > মাইক্রোফোনে গিয়ে কোন কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে তা দেখা যায়। প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপের অনুমতি বন্ধ করে দিতে পারেন।
আইফোনে যেতে হবে সেটিংস > প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি > মাইক্রোফোনে। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপগুলোর মাইক্রোফোন অ্যাক্সেস বন্ধ করা যায়।
তবে ভয় পাওয়ার আগে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার মাইক্রোফোন বন্ধ করলেই ব্যক্তিগতকৃত সব বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে না। কারণ বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য আরও অনেক ধরনের ডাটা-সিগন্যাল ব্যবহার করা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিংও কমান
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের পছন্দ ও ব্যক্তিগতকরণের সেটিংস পর্যালোচনা করা যায়। ফোনে অ্যাপগুলোর ট্র্যাকিং ও বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত অনুমতিও যতটা সম্ভব সীমিত রাখা ভালো। অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল করার আগে সেটি কেন মাইক্রোফোন, লোকেশন, কনট্যাক্ট বা অন্যান্য সংবেদনশীল অনুমতি চাইছে, তা দেখে নিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কথা বলার পর বিজ্ঞাপন দেখানো মানেই ফোন আপনার কথা শুনেছে এমন প্রমাণ নয়। অনেক সময় বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি আপনার ডিজিটাল আচরণ এতটাই সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে যে ঘটনাটি কাকতালীয় হলেও অত্যন্ত ব্যক্তিগত মনে হয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে অ্যাপের অনুমতি, বিজ্ঞাপন সেটিংস এবং গোপনীয়তার নিয়ন্ত্রণগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
কেএসকে




