এক যুগেও চালু হয়নি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
পটুয়াখালীর মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ৫০০ শয্যার আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৬ সালে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর সর্বশেষ সময়সীমা ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। সেই সময়ও পেরিয়ে গ...

পটুয়াখালীর মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ৫০০ শয্যার আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৬ সালে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর সর্বশেষ সময়সীমা ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। সেই সময়ও পেরিয়ে গেছে, এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি হাসপাতালটি।

ফলে দীর্ঘ এক যুগ পরও উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলার মানুষ। পুরোনো ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালেই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। এতে চিকিৎসা নিতে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সংশোধনের পর প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৫১ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলার মধ্যেই হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে সমস্যার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, ২৫০ শয্যার পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপ থাকায় বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। কোথাও একটি বেডে দুই শিশুকে থাকতে হচ্ছে, আবার তাদের সঙ্গে থাকছেন একাধিক স্বজন। এতে এক রোগীর সংক্রমণ অন্য রোগীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাউফল থেকে দুই বছরের শিশুকে চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, শিশুটির অনেক জ্বর। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে একটি বেডে তিনজনকে থাকতে হচ্ছে। এতে একজনের রোগ অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের অবস্থাও খুব খারাপ।

কমলাপুর ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শেফালী বেগম বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। চিকিৎসা নিতে অনেক সময় লাগে। ডাক্তার সংকট থাকায় ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না।


পুরোনো ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ

আমতলী থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন নাজমা বেগম বলেন, ‘অনেক দূর থেকে ডেঙ্গু রোগী নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আজ সাত দিন হয়ে গেছে। রোগী মোটামুটি সুস্থ। কিন্তু তাকে সুস্থ করতে গিয়ে আমরাও এখন অসুস্থ হয়ে গেছি। এখানে টয়লেটের অবস্থা খুব খারাপ। এত দুর্গন্ধ যে টয়লেটের কাছাকাছি যাওয়া যায় না।’

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপে বেডের সংকটের পাশাপাশি ওয়ার্ড ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটি বেডে একাধিক রোগী থাকায় চিকিৎসার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, শুধু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়াই নয়, নতুন হাসপাতাল চালুর ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় জনবল। হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা কঠিন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প পরিচালক ডা. এসএম কবির হাসান বলেন, প্রায় ৬৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই হাসপাতালে ১৩টি লিফটসহ আধুনিক বিভিন্ন চিকিৎসা সুবিধা থাকছে। হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার চাপ অনেকটাই কমবে, প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে জনবল নিয়োগের বিষয়টি এখনো অগ্রগতি পায়নি।

মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/জেআইএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1156624
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World