দুই বছর বিরতি দিয়ে তিতাসের বুকে ফের নৌকাবাইচ

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
দীর্ঘ দুই বছর পর আবারো বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর হয়ে উঠল শান্ত তিতাস নদী। শরতের পড়ন্ত বিকেলে নৌকাবাইচকে ঘিরে উৎসবে মেতে উঠলেন নদীর দুই পাড়ের লাখো মানুষ। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের গর্জন আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় বর্ণিল উৎসবের আবহ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া...

দীর্ঘ দুই বছর পর আবারো বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর হয়ে উঠল শান্ত তিতাস নদী। শরতের পড়ন্ত বিকেলে নৌকাবাইচকে ঘিরে উৎসবে মেতে উঠলেন নদীর দুই পাড়ের লাখো মানুষ। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের গর্জন আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় বর্ণিল উৎসবের আবহ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভরা তিতাসে নৌকাবাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর প্রাণের উৎসব হিসেবে পরিচিত। এ আয়োজনকে ঘিরে জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও দুপুরের আগেই তিতাসের দুই তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে থাকে। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর মুহূর্তেই শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা পর্যন্ত নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকার তিতাস নদীর অংশে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়। বাহারি রঙের নৌকা নিয়ে মাঝিদের বৈঠার ছন্দে একে অন্যকে পেছনে ফেলার লড়াই শুরু হলে তিতাসপাড়ে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। দুই তীরে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিযোগিতা উপভোগের পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের নৌকার পক্ষে উচ্ছ্বাস ও সমর্থন জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, নৌকাবাইচ এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নৌকাবাইচের মতো আয়োজনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সাংস্কৃতিক রাজধানী। নৌকাবাইচ এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের অংশ। মানুষ প্রতিবছর এ আয়োজন দেখতে চায়। আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


আবুল হাসনাত মো. রাফি/এফএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1156644
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World