বগুড়ায় জুলাই যোদ্ধাদের সমাবেশের আগে বিকট শব্দে আতঙ্ক
বগুড়ার সাতমাথায় আমরা জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঠিক আগমুহূর্তে পরপর দুটি বিকট শব্দ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, তিনদিন আগে ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে সারা দেশের মতো বগুড়াতেও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টার পর থেকে আমরা জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা সাতমাথার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সাতমাথা গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে বিকট শব্দে কিছু ফোটে এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জুলাই শহীদ আব্দুল আহাদ সৈকতের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ৪০-৫০ জন মানুষ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একত্রিত হয়েছিলাম। কর্মসূচি শুরুর আগেই গোলচত্বরের দিকে বিকট শব্দ হয় এবং ধোঁয়া দেখতে পাই। ঢাকার ঘটনার পর আমাদের কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে কোনো দুষ্কৃতকারী এটি করল কি না, তা নিয়ে প্রথমে কিছুটা আতঙ্কে ছিলাম। তবে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে এসেছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

ঘটনার বিষয়ে আমরা জুলাই যোদ্ধা বগুড়া জেলার আহ্বায়ক জুলফিকার আলম জানান, সারা দেশে ফ্যাসিবাদী অপশক্তির ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে কেন্দ্র নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ গোলচত্বরের দিক থেকে বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখা যায়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক দৃষ্টিতে বিষয়টিকে পটকা জাতীয় কিছু মনে হচ্ছে এবং এর কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও সিটি কর্পোরেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শব্দের পরপরই এক তরুণ ও তরুণীকে সেখান থেকে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাচ্চাদের দিয়ে এ কাজ করিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই তরুণ-তরুণীকে শনাক্তের পাশাপাশি পেছনে কারোর মদদ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর সাতমাথা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন পুলিশের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এল.বি/কেজে/জেআইএম

