ওসমান হাদির বোনের চোখে কারা দেশপ্রেমিক, কারা মীর জাফর?
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি কাউকে দেশপ্রেমিক আবার কাউকে মীর জাফর বলে অভিহিত করেছেন। ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডিতে এমন একটি পোস্ট করেন। তার এই পোস্টে নেটেজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘এই অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে মিশে আছে ১৭৫৭ সালের ইতিহাস। এখানে যেমন নবাব সিরাজউদ্দৌলা, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, হাবিলদার রজব আলী, মঙ্গল পান্ডে, মওলানা ভাসানী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়া, শহীদ ওসমান হাদির মতো সাচ্চা দেশপ্রেমিক আছেন।
ঠিক তেমনি দেশদ্রোহী মীর জাফর, ঘষেটি বেগম, শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবের মতো ক্ষমতা লোভীরাও রয়েছে। যারা শুধু ক্ষমতার মসনদে থাকার জন্য বারবার নিজের দেশকে ভিনদেশিদের কাছে বর্গা দেয়। আর দেশ মাতৃকাকে বাঁচানোর জন্য বারবার এই অঞ্চলের সূর্যসন্তানদের জীবন দিতে হয়। যতবার এই অঞ্চলের ওপর বর্গীদের কুনজর পড়েছে; ততবারই এই অঞ্চলের বিপ্লবীরা সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশকে হায়েনাদের কবল থেকে রক্ষা করেছে।
কিন্তু এর শেষ কোথায়? কতবার আর সাধারণ মানুষ জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে বাঁচাবে। কেন বিপ্লবীরা বাঁচতে পারে না? কারা দায়ী? এই অঞ্চলের ইতিহাসটাই এমন, সব সময় সাধারণ মানুষ জীবন দেবে, আর স্বার্থলোভী রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। তাহলে কি এই অঞ্চলে জন্ম নেওয়াই আজন্ম পাপ?
সেই ১৭৫৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। তাও এই অঞ্চলকে মীর জাফর মুক্ত করা গেল না। সেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ থেকেই গেল। যারা সরকার গঠন করছে, তারা শুধু নিজেদের সাময়িক সুবিধার জন্য জুলাই সনদ অস্বীকার করছে, আর বিরোধী দল ভাবছে, নাই মামার চেয়ে তো কানা মামাও ভালো। তারা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারকে বাধ্য করার মতো কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি।
সবশেষে গিয়ে কী দাঁড়ালো? যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, আর কোনো ভাবে যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তাহলে যারা এমপি-মন্ত্রী হইছে, তারা তো বিদেশে পারি জমাবে, কিন্তু নিরস্ত্র, ক্ষমতার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কী জুটবে? যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেনি, শুধু দেশ মাতৃকাকে আধিপত্যবাদ মুক্ত করতে রাস্তায় নেমেছিল, তাদের দায়িত্ব কারা নেবে? রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থের কারণেই সিপাহী বিদ্রোহের পরে এই অঞ্চলের সাধারণ জনগণের যে করুণ পরিণতি হয়েছিল, তার চেয়েও করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে, সাধারণ মানুষের জন্য।
তাই সরকারকে হাতেপায়ে ধরে বলছি, শুধু ৫ বছরের ক্ষমতার মোহে দেশটারে আর জাহান্নাম বানাইয়েন না। অতি দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশের মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক ১৬ কোটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। জাস্টিস ফর হাদি।’
এসইউ



