সন্তান আসার পর বদলে গেছে দাম্পত্য, রোমান্স ফেরানোর সহজ উপায়

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর একটি পরিবারের ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। নতুন জীবনের উল্লাস, আনন্দ আর দায়িত্বের মাঝে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে থাকে দম্পতির নিজেদের সময়টা। রাত জেগে শিশুর যত্ন, কাজের চাপ আর সারাদিনের ক্লান্তিতে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে একসময়ের সআবেগঘন মুহূর্ত কিংবা গভীর রাতের দীর্...

একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর একটি পরিবারের ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। নতুন জীবনের উল্লাস, আনন্দ আর দায়িত্বের মাঝে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে থাকে দম্পতির নিজেদের সময়টা। রাত জেগে শিশুর যত্ন, কাজের চাপ আর সারাদিনের ক্লান্তিতে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে একসময়ের সআবেগঘন মুহূর্ত কিংবা গভীর রাতের দীর্ঘ আড্ডাগুলো যেন দূর অতীতের গল্প মনে হতে শুরু করে।

অনেক দম্পতিই এই সময়ে এসে অপরাধবোধে ভোগেন-তবে কি আমাদের মধ্যকার সুন্দর মূহুর্তগুলো ফুরিয়ে গেল? উত্তর হলো, না। ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি, শুধু মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের নতুন দায়িত্বের কারণে তা সাময়িকভাবে চাপা পড়ে গেছে। একটু সচেতনতা আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যেমেই ফিরে পেতে পারেন পারেন দাম্পত্যের সেই পুরোনো উষ্ণতা।

দায়িত্বের ভাগ করে নিন

সন্তানের দেখাশোনার সব দায়িত্ব একা একজনের ওপর পড়লে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর রোমান্সের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ক্লান্তি । তাই শিশুর দায়িত্ব দুজন মিলে ভাগ করে নিন। একজন যখন শিশুর যত্ন নিয়ে, অন্যজন তাকে কিছুটা সময় দিন বিশ্রাম নেওয়ার। সঙ্গী যখন মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকবেন, তখন ভালোবাসার জায়গা এমনিই তৈরি হবে।

সারাদিন যোগাযোগ রাখুন

ব্যস্ততার কারণে দিনে হয়তো সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ কম থাকে। কিন্তু কাজের ফাঁকে 'তোমার কথা মনে পড়ছে' বা 'আজ তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল, নিজের যত্ন নিও'- এমন একটি ছোট খুদে বার্তা দিন। এটি সঙ্গীকে অনুভব করায় যে তিনি এখনো আপনার কাছে কতটা বিশেষ।

নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন

সপ্তাহে অন্তত একদিন সোশ্যাল মিডিয়া দূরে সরিয়ে রেখে একসঙ্গে শিশুর ঘুমানোর পর রাতের কিছুটা সময় শুধুই আপনাদের দুজনের জন্য তুলে রাখুন। এই সময়টাতে একসঙ্গে একটি সিনেমা দেখা, বারান্দায় বসে চা পান কিংবা অল্প গল্প করা যেতে পারে। সুযোগ থাকলে মাসে অন্তত একবার কাছের কোন মানুষের কাছে সন্তানকে কিছু সময়ের জন্য রেখে দুজনে বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

কথা বলুন সন্তানকে ছাড়াও

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন দুজন একসঙ্গে বসবেন, তখন আলোচনার বিষয় যেন শুধু সন্তানের বিষয় আলোচনা না করে নিজেদের সম্পর্কে ও কথা বলুন। সন্তানের খাওয়ার হিসাব বা ডায়াপার জানার বাহিরেও আপনাদের নিজস্ব একটি জগৎ রয়েছে। সঙ্গীর সারাদিন কেমন কাটল, তার মনের হালচাল কেমন বা কোনো পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন দিয়ে শুরু করতে পারেন রাতের আড্ডা।

ছোট ছোট স্পর্শের জাদু

রোমান্স মানেই বড় কোনো আয়োজন বা দামি ডেট নাইট নয়। কাজের ফাঁকে হুট করে প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা, রান্নাঘরের ব্যস্ততার মাঝে যতটা সম্ভব কাজে সাহায্য করা, কিংবা সকালে এক কাপ চা একসঙ্গে খেতে খেতে গল্প করলেও ভালোবাসার গভীরতা বজায় থাকে। এই ছোট ছোট শারীরিক স্পর্শগুলো আপনার সঙ্গীর সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে।

পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

বাবা-মা হিসেবে সঙ্গীর ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলোর প্রশংসা করুন। 'তুমি বাবুর খেয়াল সুন্দর করে রাখছো' কিংবা 'তুমি সত্যিই একজন চমৎকার বাবা/মা'-এ ধরনের আন্তরিক স্বীকৃতি সঙ্গীর মনে অনুরাগের সৃষ্টি করে।

সন্তান ঘরে আসা মানে দাম্পত্যের রোমান্সের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ভালোবাসার একটি নতুন ও পরিপক্ব অধ্যায়ের সূচনা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া আর সামান্য যত্নই পারে বাবা-মা হওয়ার যাত্রাতেও দাম্পত্যকে চিরসবুজ রাখতে।

এসএকেওয়াই

Original Source
https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1156658
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Lifestyle