অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
কানাডায় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার ন্যায়বিচার হবে। দেশে কিংবা দেশের বাইরে শিল্পীদের সঙ্গে হেনস্তার ঘটনায় সরকার দায় এড়াতে চায় না।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনিও বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশে যেমন অপশক্তি রয়েছে, তেমনি শুভ শক্তিও রয়েছে। দেশের বাইরেও অপশক্তি ও শুভ শক্তি রয়েছে। তবে দেশের বাইরে অপকর্ম করেও কেউ পার পাবে না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভেদাভেদ না করে দেশের সব কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। গ্রাম থেকেই উন্নয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। খাল-নদী খনন, জলাধার তৈরি এবং কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। ‘মনে রাখতে হবে, এটি কৃষকের দেশ। গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা কারও আধিপত্য মানি না। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কারও অধীনতা বা দাসত্ব মানি না। বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে।
দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি যে-ই করুক, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বিজিবি-পুলিশের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানকারী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সমাজের সবাইকে মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর আগে, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে গুরুত্বারোপ করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।
সভায় চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেএইচকে
