বিদ্যুৎ না থাকায় টর্চের আলোয় অস্ত্রোপচার

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ভারতের বিহার রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম বেহাল এক চিত্র সামনে এসেছে। টানা ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় টর্চ ও মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে দুই প্রসূতির জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের জামুই সদর হাসপাতালে। শুক্রবারের (১০ ...

ভারতের বিহার রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম বেহাল এক চিত্র সামনে এসেছে। টানা ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় টর্চ ও মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে দুই প্রসূতির জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের জামুই সদর হাসপাতালে। শুক্রবারের (১০ সেপ্টেম্বরের) এই ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতিদের নাম পূজা কুমারী ও অঞ্জনি কুমারী। প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে দুজনকেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।

চিকিৎসকরা জানান, অপারেশন থিয়েটারে তাদের অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়াটি যখন পুরোদমে চলছিল, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে পুরো হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালের জেনারেটর চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেনারেটরটিও তাৎক্ষণিকভাবে সচল হতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে ঘোর অন্ধকারে ঢেকে যায় পুরো অপারেশন থিয়েটার।

অস্ত্রোপচার মাঝপথে বন্ধ রাখা প্রসূতিদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে- এই আশঙ্কায় আর বিলম্ব করেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক দল। তারা অবিলম্বে নিজেদের হাতের কাছে থাকা টর্চলাইট ও উপস্থিত কর্মীদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে আলো তৈরি করেন।

চিকিৎসক ড. শালিনী কুমারী, ড. রঘুনন্দন ও ওটি সহকারী অমিত কুমারের সমন্বয়ে গঠিত দলটি মোবাইল ও টর্চের সেই সীমিত আলোতেই অস্ত্রোপচারের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

সংকটাপন্ন অবস্থায় অস্ত্রোপচার শেষ করার পরপরই তারা বিষয়টি হাসপাতালের সিভিল সার্জন ও সুপারিনটেনডেন্টকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেন।

এরই মধ্যে এ ঘটনার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ও চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুরো অপারেশন থিয়েটার অন্ধকারে ডুবে আছে ও কেবল একটি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের ওপর ভরসা করে অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে ক্ষোভের সঙ্গে বলতে শোনা যায় যে, অপারেশন থিয়েটারে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আলো ছিল না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বারবার এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো ও সমস্যার কথা তুলে ধরা সত্ত্বেও কেউ কোনো সমাধান করেননি।

ভিডিওটির একপর্যায়ে দেখা যায়, একজন নার্স তার মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটটি সোজা অস্ত্রোপচার স্থানে নির্দেশ করে ধরে আছেন, যাতে চিকিৎসকরা অন্ধকারে কাটাছেঁড়ার কাজটি সূক্ষ্মভাবে করতে পারেন।

অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। চিকিৎসকরা অভিযোগ তোলেন, এই ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অন্ধকারের মধ্যে চিকিৎসা চালানোর ঘটনা এই হাসপাতালে এবারই প্রথম নয়।

তাদের দাবি, এর আগেও একাধিকবার আকস্মিক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে নানা জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয়েছে।

চিকিৎসকদের এই বিস্ফোরক দাবি সত্ত্বেও হাসপাতালের ম্যানেজার রমেশ পান্ডে সম্পূর্ণ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের কোনো ঘটনা হাসপাতালে কখনোই ঘটেনি ও অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

তবে ঘটনার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জামুই সদর হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ড. থানেশ কুমার জানিয়েছেন, প্রশাসন পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ও বিস্তারিত তথ্যা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, পুরো ঘটনার পেছনের দায়বদ্ধতা ও গাফিলতি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এসএএইচ

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1156734
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World