অনলাইন বিজ্ঞাপন দিয়ে নাগরিকদের গোপন তথ্য ও লোকেশন বিক্রি করতেন তারা

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
নাগরিকদের তথ্য বিক্রির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও সর্বশেষ লোকেশন বিক্রি করতো চক্রটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় অবস্থিত র‍্যাব-২ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ...

নাগরিকদের তথ্য বিক্রির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও সর্বশেষ লোকেশন বিক্রি করতো চক্রটি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় অবস্থিত র‍্যাব-২ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘ডার্ক ওয়েবে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির’ বিষয়ে গত কয়েকদিন ধরে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‍্যাব কাজ শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে র‍্যাব তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন লিংক ও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে কারা, কীভাবে নাগরিকের তথ্য অনলাইনে বিক্রি করছে তা শনাক্ত করে।

নয়মুল হাসান বলেন, সংঘবদ্ধ এই তথ্য পাচারকারী চক্রকে গ্রেফতারে র‍্যাব একযোগে সারাদেশে অভিযান শুরু করে। অভিযানকালে নওগাঁ থেকে আব্দুস সালাম সরকার, গাজীপুর থেকে সুব্রত চন্দ্র পাল, নোয়াখালী থেকে ইসমাইল হোসেন সোহাগ, গোপালগঞ্জ থেকে এসএম নাফি ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মো. মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার আব্দুস সালাম সরকার নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রির উদ্দেশ্যে ই-সেবা২৪.টপ (e-seba24.top) নামের এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট তৈরি করেন। এখানে অর্ডার দিলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সব ধরনের তথ্য গ্রাহককে পৌঁছে দিতেন তিনি।

র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, গ্রেফতার আব্দুস সালাম সরকার ও তার পরিচিত কিছু লোক পরস্পরের যোগসাজশে ওয়েব পেজ ই-সেবা২৪.টপ এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে মোবাইল সিমের লাস্ট কল লোকেশন, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই সার্চ তথ্য, সিডিআর, সিমের মালিকানা তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ/নগদ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য ও লেনদেন বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যসহ নাগরিকের গোপনীয় তথ্যসমূহ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তারা এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করে। সালাম নিজেই এই ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন। তিনি ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া গ্রেফতার সুব্রত, ইসমাইল, নাফি এবং মেহেদী ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে, বিভিন্ন ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার সংগ্রহ করে নাগরিকের গোপনীয় তথ্য বিক্রি করতেন। তারা অর্থ আদান-প্রদানের জন্য বিভিন্ন নামে-বেনামে সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আসছিলেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, এনআইডি/সিডিআর/লোকেশন এবং অন্যান্য সার্ভিসের জন্য তারা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা কীভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করতেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে সরকারি সার্ভার থেকে কারা অর্থের বিনিময়ে তথ্য ফাঁস করেছে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশনে চুক্তি ভিত্তিক কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এই কাজগুলো করতে পারেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের যোগসাজশ আছে কিনা জানতে চাইলে নয়মুল হাসান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারও যোগসাজশ পাইনি। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

কেআর/এমএমকে

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1156752
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Crime