বেড়েছে দাম, ছোট হয়েছে রিকশাচালক-দিনমজুরের নাশতা কেক-পাউরুটি

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর যখন এমনিতেই চড়া, ঠিক সেই মুহূর্তে হুট করে বেড়ে গেছে হাতে বানানো পাউরুটি, বিস্কুট, কেকসহ প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম। আর এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, ব...

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর যখন এমনিতেই চড়া, ঠিক সেই মুহূর্তে হুট করে বেড়ে গেছে হাতে বানানো পাউরুটি, বিস্কুট, কেকসহ প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম। আর এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম ঠিক রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর প্রভাবে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে।

​রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ও চায়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে ১০ টাকা দামের ছোট পাউরুটি ১৫ টাকা এবং ১০ টাকার সাধারণ কেক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১৫ টাকার রুটি-কেক ২০ টাকা করা হয়েছে।

তবে বেশিরভাগ দোকানে পণ্যের দাম না বাড়িয়ে আগের চেয়ে ওজন ও সাইজ ছোট করে দিয়েছে বেকারিগুলো।

এদিকে আকার ও ওজনভেদে হিসাব করলে, পরিবারে ব্যবহৃত বড় পাউরুটির দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে বেকারিতে তৈরি শুকনো বিস্কুট, চানাচুর ও বনরুটির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।

jagonews24

​বিক্রেতারা জানান, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এরফলে সমিতির সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ​হুট করে বেকারি পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীদের ওপর। তাদের দৈনিক খাদ্যতালিকার বড় একটি অংশজুড়ে থাকে চা ও বেকারি পণ্য।

​সেগুনবাগিচায় রিকশা থামিয়ে চা-বিস্কুট খাচ্ছিলেন চালক রফিকুল ইসলাম। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে দুপুরের খাটুনি শেষে ৫-১০ টাকার বিস্কুট আর চা খেয়ে একটু পেটের ক্ষুধা মিটাতাম। এখন সেই বিস্কুটের দামও ৫ টাকা বেড়ে গেছে। সকালে দুটো বনরুটি আর চা খেলে আগে ২০ টাকায় হয়ে যেত, এখন ৩০ টাকা লাগে। দিনে যদি চা-নাশতাতেই অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা চলে যায়, তবে দিনশেষে পরিবারকে কী দেবো?

​একই ধরনের দুশ্চিন্তার কথা জানালেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক আসমা বেগম। তিনি বলেন, বাচ্চারা সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পাউরুটি বা বিস্কুট খেতে চায়। ভাত রান্না করার সময় থাকে না। কিন্তু এখন যে হিসাব, তাতে বাচ্চার মুখে দুটো বিস্কুট তুলে দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিত্যপণ্যের সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এমনিতেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ওপর বেকারি পণ্যের মতো সহজলভ্য ও জরুরি খাদ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে কিছু কিছু বেকারির পণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে একধরনের অরাজকতা দেখা গেছে। ঘোষিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে তাদের পণ্যের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। কারণ ১০ টাকার রুটি এখন ১৫ টাকা, আর ১৫ টাকারটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম না বাড়িয়ে কমানো হয়েছে ওজন।

এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছে। নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ না নিতে পারে, সেজন্য আমরা খোঁজখবর করছি, যারা বেশি দাম বাড়াবে তাদের পক্ষ থেকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্ষুদ্র বেকারি আছে প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক।

এনএইচ/বিএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/economy/news/1156824
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Economy