ম্যানচেস্টার ডার্বিতে মুখোমুখি সিটি-ইউনাইটেড, ম্যাচ কখন-কোথায়?
প্রিমিয়ার লিগে আজ আবারও উত্তাপ ছড়াবে ম্যানচেস্টার। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মুখোমুখি হচ্ছে শহরের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় এই দ্বৈরথে এবারও থাকছে মর্যাদা, আধিপত্য ও নগর-শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।
ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াজ। নতুন মৌসুমে দলের শুরুটা ইতিবাচক হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন কোচ এনজোর কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং দলের পুরোনো মান ধরে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন পর্তুগিজ এই ডিফেন্ডার।
জিওস্টারের সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিয়াজ বলেন, নতুন মৌসুমে অনেক কিছু বদলালেও দলের মূল পরিচয় খুব একটা বদলায়নি। ‘নতুন মৌসুমের শুরুটা খুবই ইতিবাচক হয়েছে। অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুব বেশি কিছু বদলায়নি। দলের চারপাশে নতুন একটা শক্তি অনুভব করছি, যা ভালো লাগছে।’
সিটিতে নতুন কোচ এনজো দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের কৌশলে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা এখনো সিটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন দিয়াজ।
তার ভাষায়, ‘এনজোর নিজস্ব কিছু ধারণা আছে- আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই তিনি কিভাবে খেলাটি দেখতে চান, সে বিষয়ে তার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা আগের যে ধরনের ফুটবল খেলতাম, সেটার সঙ্গে এখনো অনেক মিল আছে।’
বল দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করা সিটির ফুটবলের অন্যতম ভিত্তি। নতুন কৌশলের মধ্যেও সেই ধারাবাহিকতা থাকছে বলে জানিয়েছেন দিয়াস।
‘আমরা এখনো বল দখলে আধিপত্য রাখি, যেটা আমাদের মূল বৈশিষ্ট্য। তাই কিছু পরিবর্তন থাকলেও ধারাবাহিকতাও আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সবাই নতুন ধারণাগুলো গ্রহণ করছে। অনুশীলনে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি, যাতে প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে বুঝতে পারি।’
মৌসুমের শুরুর ফলাফলও দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে বলে মনে করেন তিনি। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না দিয়াস। ম্যাচ ধরে ধরে নিজেদের আরও উন্নত করতে চান তারা।
গ্রীষ্মের দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটিতে এবার বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন খেলোয়াড় যেমন এসেছেন, তেমনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খেলোয়াড় ক্লাব ছেড়েছেন। তবে দিয়াসের কাছে এটি ফুটবলের স্বাভাবিক চক্র। নতুন যারা দলে এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের লক্ষ্যও একই- সাফল্য ও শীর্ষে থাকা।
‘সব সময়ই নতুন মুখ আসে, আবার কেউ কেউ চলে যায়। এবার দলবদলের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খেলোয়াড় চলে গেছে। কিন্তু এটি একটি চক্র। যারা এখানে আসে, তারা সবাই একই কারণে আসে- জিততে এবং শীর্ষে পৌঁছাতে।’
নতুনদের দ্রুত দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই এখন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন দিয়াস। তার মতে, খেলোয়াড় বদলালেও সিটির উচ্চ মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।
‘নতুন যারা এসেছে, তারা কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে এবং এখানে কী প্রত্যাশা করা হয় তা বুঝতে পারে- সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ভবনে কে আছে, তার ওপর দলের মানদণ্ড বদলায় না। আমাদের দল শক্তিশালী এবং নতুন খেলোয়াড়রাও ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। লক্ষ্য একই আছে, আমরা সবাই একই দিকে এগোচ্ছি।’
ম্যানচেস্টার সিটির পুরোনো নেতৃত্বগোষ্ঠীর হাতে গোনা কয়েকজন সদস্যের একজন এখনো দিয়াস। দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাবটির সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ডিফেন্ডারের কাছে বিষয়টি আবেগেরও।
‘সময় খুব দ্রুত চলে যায়। যতদিন আছেন, উপভোগ করতে হবে। ম্যানচেস্টার সিটিতে কাটানো সময় আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা।’
সিটির হয়ে বহু শিরোপা জেতা এবং ক্লাবের সাফল্যের বিভিন্ন অধ্যায়ের সাক্ষী হওয়ার অভিজ্ঞতাই এখন তার সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে মনে করেন দিয়াজ।
‘আগের যারা এখানে ছিল, তাদের সঙ্গে অনেক কিছু পার করেছি, অনেক কিছু জিতেছি। সাফল্যের জন্য কী প্রয়োজন এবং প্রতিদিন কতটা ধারাবাহিক থাকতে হয়- সেটা খুব ভালোভাবে জানি। এই অভিজ্ঞতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না দিয়াজ। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। আর প্রতিপক্ষ যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, তখন চ্যালেঞ্জ আরও বড়।
‘এটি কঠিন একটি ম্যাচ। এটি প্রিমিয়ার লিগ, আর সেটাই অনেক কিছু বলে দেয়। আমরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ম্যাচে যাচ্ছি এবং খেলতে মুখিয়ে আছি।’
ইউনাইটেডের সামর্থ্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন সিটির এই ডিফেন্ডার। ‘এটি অনেক উচ্চমানের ম্যাচ। এটাই এই লিগের সৌন্দর্য। এখানে কোনো সহজ ম্যাচ আশা করা যায় না। আমরা প্রত্যেক প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং সবার বিপক্ষেই একইভাবে প্রস্তুতি নিই। আমরা জানি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কী করতে পারে। তাই চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব।’
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ডার্বির উত্তাপ
দুই দলের এই লড়াই শুধু তিন পয়েন্টের ম্যাচ নয়। ম্যানচেস্টারের ফুটবল-অহংকারের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ডার্বিটি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচ হওয়ায় ইউনাইটেড সমর্থকদের উন্মাদনার মধ্যেই মাঠে নামতে হবে সিটিকে।
একদিকে নিজেদের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে ইউনাইটেড, অন্যদিকে নতুন মৌসুমের ইতিবাচক শুরু ধরে রেখে নগর-প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য সিটির। ফলে ম্যাচে কৌশলের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সিটির হয়ে দিয়াসের নেতৃত্বে রক্ষণ সামলানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নতুন কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা যেমন হবে, তেমনি ডার্বির চাপ সামলে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলাটাও সিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আজকের রাত হতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার ফুটবলের আরেকটি উত্তপ্ত অধ্যায়ের। দুই দলের লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ হাসি, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
ম্যাচের তথ্য
ম্যাচ: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম ম্যানচেস্টার সিটি
প্রতিযোগিতা: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ভেন্যু: ওল্ড ট্র্যাফোর্ড
সময়: বাংলাদেশ সময় রাত ৯.৩০টা
লাইভ: স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১
আইএইচএস/


